বিশ্বের খবর
ইরান-আমেরিকা সংঘর্ষ না নাটক? কাতারে সংঘর্ষের পর মুখ খুললেন ট্রাম্প
ডিজিটাল ডেস্কঃ আবারও রক্তগরম পশ্চিম এশিয়া। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতি বহন করা কাতারের দোহা শহর সোমবার রাতে এক ভয়াবহ আতঙ্কের সাক্ষী। রাত সওয়া একটা নাগাদ শুরু হয় ইরানের পরপর মিসাইল হামলা। লক্ষ্য কাতারের আল উদেইদ মার্কিন বায়ুসেনা ঘাঁটি—যেখানে থাকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও একাধিক যুদ্ধবিমান। কিন্তু আগাম প্রস্তুতি থাকায় ক্ষয়ক্ষতির আগেই ব্যবস্থা নেয় কাতার। সক্রিয় হয়ে ওঠে এয়ার ডিফেন্স, রেড সিগন্যাল জারি হয় কাতারের আকাশে, সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয় দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও।
সবাই যখন ভাবছিলেন, এই হামলার পর বিশ্বব্যাপী তেলের দাম হু হু করে বাড়বে, তখন ঘটল সম্পূর্ণ উল্টো ঘটনা। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে দাঁড়াল ব্যারেল প্রতি ৬৭.৮৯ ডলার, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম এসে ঠেকল মাত্র ৬৫ ডলারে। প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধের ছায়ায় যখন বাজার কাঁপে, তখনই কেন এই দাম কমা?
আরও পড়ুনঃ ‘গণতন্ত্রের অন্ধকার অধ্যায়’, জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তিতে কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ মোদীর
জবাব দিয়েছেন স্বয়ং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি জানান, “ইরানের হামলা ছিল দুর্বল এবং পূর্বনির্ধারিত। ১৪টি মিসাইল ছোঁড়া হলেও ১৩টি আমেরিকা নামিয়ে ফেলে, একটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়—কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।” একইসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আগেই হামলার ‘নোটিস’ দেওয়া হয়েছিল ইরানের পক্ষ থেকে, যার জন্যই এমন কৌশলী প্রতিরক্ষা সম্ভব হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য ট্রাম্পের পোস্টের শেষে—“এখন ইরান শান্তির পথে হাঁটতে পারে।” আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এটা ছিল ‘গট-আপ যুদ্ধ’? লোক দেখানো হামলা চালিয়ে যুদ্ধ থেকে মুখ ফেরানোর ইঙ্গিত?
ট্রাম্পের বক্তব্য, সংঘর্ষবিরতির পেছনে অন্যতম কৃতিত্ব B2 বোমারু বিমানের পাইলটদের। নিখুঁত নিশানার জন্যই শান্তির বার্তা পৌঁছেছে, দাবি প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সোমবার রাত সাড়ে তিনটেয় (ভারতীয় সময়) ট্রাম্প স্বয়ং সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা করেন।
তবে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে—এই শান্তি কতটা স্থায়ী হবে? যদিও বর্তমানে হামলা-পাল্টা হামলার গতি কিছুটা কমেছে, ইরান-ইজরায়েলের উত্তেজনা কিন্তু এখনও প্রশমিত হয়নি। তাই আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে নতুন করে ফিরে এসেছে পুরনো প্রশ্ন—বোমা মেরে কি আদৌ শান্তি আসে?
