দেশ
‘গণতন্ত্রের অন্ধকার অধ্যায়’, জরুরি অবস্থার ৫০ বছর পূর্তিতে কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ মোদীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত ও আলোচিত অধ্যায়—জরুরি অবস্থার (Emergency) ৫০ বছর পূর্ণ হল বুধবার। ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) গোটা দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন। তার ৫০তম বর্ষপূর্তিতে বুধবার একের পর এক টুইটে কংগ্রেসকে নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। এক্স (X) হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, “এই দিনটি ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি অন্ধকার অধ্যায়।”
মোদীর কথায়, “জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ভাবনাকে পায়ের তলায় দলা পাকানো হয়েছিল। মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী, সমাজকর্মী, ছাত্রদের বিনা বিচারে জেলে পাঠানো হয়েছিল।”
When the Emergency was imposed, I was a young RSS Pracharak. The anti-Emergency movement was a learning experience for me. It reaffirmed the vitality of preserving our democratic framework. At the same time, I got to learn so much from people across the political spectrum. I am… https://t.co/nLY4Vb30Pu
— Narendra Modi (@narendramodi) June 25, 2025
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে প্রায় ২১ মাস দেশজুড়ে চলেছিল এই ‘অবৈধ’ শাসন। প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও লেখেন, “আমাদের সরকার সংবিধানের আদর্শ রক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও মজবুত করতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি বলেন, “ভারতের নাগরিকরা এই দিনটিকে সংবিধান হত্যা দিবস (Constitution Betrayal Day) হিসেবে মনে রাখে।”
‘The Emergency Diaries’ chronicles my journey during the Emergency years. It brought back many memories from that time.
I call upon all those who remember those dark days of the Emergency or those whose families suffered during that time to share their experiences on social…
— Narendra Modi (@narendramodi) June 25, 2025
বুধবারই ‘দ্য এমারজেন্সি ডায়েরিজ’ (The Emergency Diaries) নামের একটি বই প্রকাশিত হচ্ছে। এই বইতে জরুরি অবস্থার সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। বইটির ভূমিকা লিখেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া (H.D. Deve Gowda)। উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বইটিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর নিজের অভিজ্ঞতার কথাও রয়েছে। তখন তিনি ছিলেন আরএসএস-এর তরুণ প্রচারক।
মোদী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন আমার কাছে এক অসাধারণ শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা ছিল। আজ যারা সেই অধ্যায়ের সাক্ষী, তাঁদের আমি আহ্বান জানাই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে। নতুন প্রজন্মকে বুঝতে হবে কীভাবে একদিন গণতন্ত্রকে খামচে ধরা হয়েছিল।”
প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় স্পষ্ট, জরুরি অবস্থার স্মৃতি আজও রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করতে প্রস্তুত বিজেপি। আর কংগ্রেস? তারা এখনও এই অধ্যায়ের দায় স্বীকার করে না বলেই বিজেপির অভিযোগ।
