ডিজিটাল ডেস্ক: মহেশতলার (Maheshtala) রবীন্দ্রনগর (Rabindranagar) থানা এলাকায় সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনার পর বুধবার আদালতের অনুমতি নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
গত ১১ জুন মন্দিরের সামনে তুলসি মঞ্চ বসানোকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধেছিল। ওই ঘটনায় একাধিক বাড়ি, দোকান, গাড়ি ভাঙচুর হয়। আক্রান্ত হয় পুলিশ এবং পুলিশের গাড়িও। দীর্ঘ দিন ধরে এলাকা উত্তপ্ত থাকায় প্রশাসন ১৬৩ ধারা জারি করে এবং বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রায় ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি বদলি করা হয়েছে রবীন্দ্রনগর থানার আইসি এবং মহেশতলার SDPO-কে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অনলাইন পোর্টাল চালু, প্রথম দিনে পড়ুয়াদের বিপুল সাড়া
এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে বুধবার বিকেলে মহেশতলায় পৌঁছন শুভেন্দুবাবু। আদালতের অনুমতি নিয়েই তাঁর এই সফর। তিনি একে একে সংঘর্ষ কবলিত মন্দির, আক্রান্তদের বাড়ি এবং দোকান ঘুরে দেখেন। কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। শেষে তিনি পৌঁছন সেই শিব মন্দিরে যেখানে তুলসি মঞ্চ বসানোকে ঘিরে বিবাদের সূত্রপাত। সেখানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন তিনি।
ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পুলিশ আমাকে আটকাতে চেয়েছিল। আমি আক্রান্তদের সঙ্গে কথা বলেছি। সব মন্দির ঘুরে দেখেছি। একটা মন্দিরের সামনে কয়েকজন মহিলা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। আমি তাদের সম্মান জানিয়ে সেখান থেকে চলে এসেছি। সবকিছু ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়েছে। আদালতে সমস্ত তথ্য পেশ করব। ভাইপোবাবু আমাকে আটকাতে পারবেন না।”
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, তৃণমূল কৌশলে মহিলাদের সামনে রেখে তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ওই এলাকার আক্রান্তরা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংখ্যায় কম হওয়ার জন্য তাঁরা যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বলেন, “ওই আক্রান্তরা ১১ জুনের ঘটনার সুবিচার চান।”
উল্লেখ্য, মহেশতলার সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং বিরোধীদের তৎপরতায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকাজুড়ে।