হামলা
‘অপারেশন সিঁদুর’-এ জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনার প্রত্যাঘাত, নেতৃত্বে দুই সাহসিনী
ডিজিটাল ডেস্কঃ পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিমান হামলার পর বুধবার দিল্লিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলন করে। সংবাদমাধ্যমের সামনে এই ব্রিফিংয়ের অন্যতম তাৎপর্য ছিল, সেনার পক্ষ থেকে মুখ্য ভূমিকা নেন দুই মহিলা আধিকারিক— কর্নেল সোফিয়া কুরেশি (Colonel Sophia Qureshi) এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহ (Wing Commander Vyomika Singh)। তাঁদের বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার প্রতিশোধ নিতে ভারত সরকার চালিয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’, যার অধীনে অন্তত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিকে নিশানা করে ধ্বংস করা হয়েছে।
বিদেশ সচিবের বার্তা: “সীমান্তপারের প্রত্যাঘাত ছিল দায়িত্বশীল পদক্ষেপ”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি (Vikram Misri)। তিনি জানান, “পহেলগাঁওয়ে নিরীহ হিন্দু পর্যটকদের হত্যা করেই জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছিল জঙ্গিরা। তবে সরকার ও দেশের জনগণ মিলে সেই চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছেন।”
তাঁর কথায়, ভারতের পদক্ষেপ ছিল “পরিমিত, দায়িত্বশীল এবং সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধমূলক। কোনো বেসামরিক অবস্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি এবং কোনও নিরীহের ক্ষতিও হয়নি।”
সেনার ব্রিফিং: “জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে”
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কর্নেল সোফিয়া কুরেশি (Colonel Sophia Qureshi) জানান, “পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ছড়িয়ে থাকা দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী অবকাঠামোই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। নিরীহ পর্যটক এবং তাঁদের পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়ার জন্যই অপারেশন সিঁদুর শুরু করা হয়।”
তিনি জানান, পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের সাওয়াই নালা থেকে শুরু করে দক্ষিণে বাহাওয়ালপুর পর্যন্ত বিস্তৃত প্রশিক্ষণ ক্যাম্পগুলি এই হামলার আওতায় ছিল। ধ্বংস করা হয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammad) সদর দফতর ‘মারকাজ সুবহানাল্লাহ’ (Markaz Subhanallah), যেখানে ২৬/১১ মুম্বই হামলার জঙ্গিরাও প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।
উইং কমান্ডার ব্যোমিকা: “সন্ত্রাসীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে”
উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহ (Wing Commander Vyomika Singh) সাংবাদিকদের জানান, “সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদে অবস্থিত লস্কর-ই-তইবার (Lashkar-e-Taiba) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং শিয়ালকোটের বার্নালা ও মাহমুনা ক্যাম্পগুলিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির পিঠ ভেঙে দিয়েছে। যেখান থেকে তারা অতীতে ভারতের বিরুদ্ধে বহু হামলা সংগঠিত করেছিল, সেই ঘাঁটিগুলিই এখন ছাই হয়ে গেছে।”
পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ও নৈতিকতা—ত্রিমুখী কৌশল
সেনার এই অভিযানে শুধু কৌশল নয়, স্পষ্ট বার্তাও ছিল। কর্নেল কুরেশি বলেন, “এই হামলায় আমরা অত্যন্ত সচেতনভাবে অসামরিক এলাকা এড়িয়ে চলেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল কেবলমাত্র জঙ্গিদের অবকাঠামো।” তিনি এও জানান, ২০২৫ সালের মার্চে জম্মু-কাশ্মীরে চার সেনা শহিদ হয়েছিলেন, যাঁদের হত্যাকারীরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে প্রশিক্ষিত ছিল—তাদের ঘাঁটিও এদিন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেনার বক্তব্যে একদিকে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কৌশল, অন্যদিকে রয়েছে প্রতিশোধের আবেগ এবং মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখার সংকল্প। কর্নেল সোফিয়া কুরেশির কথায়, “এই অভিযান শুধু সামরিক নয়, ন্যায়বিচারের জন্য এক আঘাত।”
