হাই কোর্ট
সিপিএম বিরোধিতা করছে, তবু মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষকদের পাশে,’ কুণাল ঘোষের মন্তব্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ শারীর শিক্ষা এবং কর্মশিক্ষার বিভাগে অতিরিক্ত শূন্যপদ (Super Numeric Post) তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে চাপে পড়েছে রাজ্য সরকার। মৌখিক ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে, কলকাতা হাইকোর্ট এবার লিখিতভাবে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল। বিচারপতি সুকুমার ভট্টাচার্যের বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, অতিরিক্ত শূন্যপদ কার স্বার্থে তৈরি হয়েছিল?
এমন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্র। মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের চেম্বারে গিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন শারীর শিক্ষা ও কর্মশিক্ষার একাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা। পরে তাঁদের দেখা গেল তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সঙ্গে। বিকাশবাবুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁরা অভিযোগ করলেন, “আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আমাদের চাকরি নিয়ে টানাটানি করছেন কিছু আইনজীবী।”
আরও পড়ুনঃ নিজের দেশের ভেতর বাড়ি গুঁড়িয়ে ‘কঠোর ব্যবস্থা’? প্রশ্ন তুললেন কুণাল ঘোষ
এই সুযোগে কুণাল সরাসরি সিপিএমের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “সিপিএম এবং তাদের ঘনিষ্ঠ কিছু আইনজীবী লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন, আজ তারাই চাকরি রোখার চেষ্টা করছেন। মুখ্যমন্ত্রী যখন চাকরি দিচ্ছেন, তখন সিপিএমের উকিলরা আদালতে গিয়ে তা আটকাতে চাইছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, কিছু আইনজীবী ও সিপিএম নেতারা একজোট হয়ে আদালতের মাধ্যমে রাজ্যের চাকরি প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করছেন। প্রমাণস্বরূপ তিনি সাংবাদিকদের সামনে একাধিক ছবি ও তথ্য তুলে ধরেন, যেখানে কয়েকজন সিপিএম নেতাকে শিক্ষকদের অবস্থান-বিক্ষোভে দেখা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসএসসি-র মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদিত হলেও, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এই শূন্যপদ সৃষ্টি আইনবহির্ভূত। এমনকি, মন্ত্রিসভার সদস্যদের সিবিআই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টে সেই সিদ্ধান্তে সংশোধন আসে। দেশের শীর্ষ আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বাতিল করে দেয়।
অন্যদিকে, চেম্বার ঘেরাও নিয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আইনের লড়াই চালাচ্ছি বলেই শাসকদল আমাদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা তাঁর চেম্বারে ঢুকে বিক্ষোভ দেখিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিকাশের মতে, এই ঘটনায় ফের প্রমাণিত হল রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক শালীনতার অভাব রয়েছে।
