ধর্ম
একাধিক ভোটে ব্যর্থতা, তাই হিন্দুত্বই শেষ অস্ত্র বিজেপির? হনুমান জয়ন্তীতে বার্তা সুকান্তর
ডিজিটাল ডেস্কঃ আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে। শাসক-বিরোধী সবাই এখন ব্যস্ত ভোটবাক্স মজবুত করতে। আর ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে হিন্দুত্বকে সামনে রেখে জনসংযোগে জোর দিচ্ছে বিজেপি। রামের পর এবার বজরংবলীর শরণে গেরুয়া শিবির। হনুমান জয়ন্তীকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিজেপির ধারাবাহিক কর্মসূচি।
শনিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির সোদপুরে উপস্থিত হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে গেরুয়া ধ্বজা বিতরণ করেন তিনি। এমনকি রাস্তায় চলা গাড়িও থামিয়ে নিজে হাতে গাড়ির গায়ে গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে দেন। এরপর উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির পতাকা উত্তোলন করেন সুকান্ত। সেখানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক দলীয় নেতা-কর্মীও। সুকান্ত মজুমদার সদ্য পাশ হওয়া ওয়াকফ আইনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “যেভাবে সিএএ নিয়ে ভুল বোঝানো হয়েছিল, সেভাবেই ওয়াকফ আইন নিয়েও বিভ্রান্ত করা হচ্ছে মুসলমান সমাজকে।” হনুমান জয়ন্তীর প্রেক্ষিতে হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ধর্ম ও সংস্কৃতির পক্ষে দাঁড়ান। এই লড়াইয়ে আমি আপনাদের পাশে আছি।”
আরও পড়ুনঃ জলঙ্গির বিডিও অফিস ভাঙচুর! মুর্শিদাবাদের অশান্তি নিয়ে সরব শুভেন্দু
এদিন তিনি নিজেও তাঁর সল্টলেকের বাসভবনে ‘গৈরিক ধ্বজ বন্ধন’ কর্মসূচি পালন করেন এবং সর্বস্তরের মানুষকে নিজেদের বাড়িতে গেরুয়া পতাকা লাগানোর আবেদন জানান। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বিশ্লেষণ, একের পর এক নির্বাচনে ব্যর্থতার মুখে দাঁড়িয়ে বিজেপি ফের হিন্দুত্বকেই মুখ্য অস্ত্র করে ভোটের ময়দানে ঝাঁপাতে চাইছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—হিন্দুত্ব দিয়ে কতটা ভোট টানা যাবে বাংলার মাটিতে?
তৃণমূল শিবিরের দাবি, রাজ্যের মানুষ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতাকেই গুরুত্ব দেন। গেরুয়া শিবির যতই ধর্মীয় আবেগে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করুক, বাংলার মানুষ ফের আস্থা রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারে—এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত।
