খুন
ভালোবাসার অপরাধে প্রাণ গেল প্রেমিকার, খুনের দায়ে গ্রেফতার বাবা
ডিজিটাল ডেস্কঃ প্রেমের “অপরাধে” নিজের মেয়ের জীবন কেড়ে নিলেন এক বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের সমস্তিপুরে, যেখানে এক প্রাক্তন সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে নিজের মেয়েকে হত্যা করে লাশ বাড়ির পরিত্যক্ত শৌচালয়ে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেফতার করেছে।
নিহত তরুণীর নাম সাক্ষী (২৫)। পরিবারের অভিযোগ, সাক্ষীর প্রেম ছিল দিল্লির এক ভিন জাতের যুবকের সঙ্গে। তারা একসঙ্গে কলেজে পড়ার সময় থেকেই সম্পর্কে জড়িয়েছিল। প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে ৪ মার্চ দিল্লিতে চলে যান সাক্ষী। বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্ষিপ্ত হন তাঁর বাবা মুকেশ সিং, যিনি এক সময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ধর্ষণের মামলায় জামিন, আদালতের মন্তব্য: ছাত্রী ‘নিজেই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মেয়েকে বুঝিয়ে আবার সমস্তিপুরে ফিরিয়ে আনেন মুকেশ। তবে তা মেনে নিতে পারেননি তিনি। কিছুদিন পরই হঠাৎ করে ফের নিখোঁজ হয়ে যায় সাক্ষী। মুকেশ তখন স্ত্রীকে জানান, মেয়েটি আবার পালিয়ে গেছে। কিন্তু সন্দেহ দানা বাঁধে মায়ের মনে। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তে নামে স্থানীয় থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা বাড়ির ভেতরে পচাগন্ধ পান এবং একটি পুরনো বন্ধ শৌচালয়ের দরজা ভেঙে ভেতর থেকে উদ্ধার করেন পচাগলা মরদেহ। সনাক্ত করা হয়, সেটিই ছিল নিখোঁজ সাক্ষীর দেহ।
পুলিশের জেরায় শেষ পর্যন্ত হত্যার দায় স্বীকার করেন বাবা মুকেশ সিং। তিনি জানান, সমাজের চাপে ও ‘পরিবারের সম্মান’ রক্ষায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশ মনে করছে, এটি একটি স্পষ্ট “অনার কিলিং”-এর ঘটনা। মুকেশ সিং-এর বিরুদ্ধে খুন ও প্রমাণ লুকোনোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তরুণীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
