ভাইরাল খবর
বিয়ে নয়, বিক্রি! স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আড়ালে গরিব মেয়েদের পাচার চক্র ফাঁস
ডিজিটাল ডেস্কঃ গরিব পরিবারের মেয়েদের কিনে চড়া দামে বিক্রি—এমনই চাঞ্চল্যকর বাণিজ্যের পর্দাফাঁস হল রাজস্থানে। ‘বিয়ে’ নামক আবরণে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই মানব পাচারের চক্র। অভিযুক্ত, রাজস্থানের একটি তথাকথিত ‘স্বেচ্ছাসেবী’ সংস্থা—‘গায়ত্রী সর্বসমাজ ফাউন্ডেশন’। এই ঘটনার মূল পাণ্ডা গায়ত্রী বিশ্বকর্মাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, সংস্থার ডেরা ছিল জয়পুর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের বসসি এলাকার সুজনপুরা গ্রামে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হত সমাজসেবার আখড়া, কিন্তু ভিতরে চলত গরিব ও অসহায় মেয়েদের বিক্রি করার ভয়ঙ্কর ব্যবসা। বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্য থেকে গরিব কিশোরীদের কিনে আনা হত। তার পর বিয়ের নাম করে তাদের মোটা টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হত হবু পাত্রদের কাছে। গায়ের রং, উচ্চতা, স্বাস্থ্য—সব মিলিয়ে নির্ধারিত হত ‘দাম’। পুলিশ সূত্রে খবর, এক একটি মেয়েকে বিক্রি করা হত প্রায় ৫ লক্ষ টাকায়।
আরও পড়ুনঃ রাজনীতিবিদকে ফাঁসাতে চেয়েছিলেন, পুলিশের কাছে ফাঁস হল বাস্তব চিত্র
এই চক্রে নাবালিকাদের ‘বিবাহযোগ্য’ করে তুলতে নকল আধার কার্ড বানানোর মতো অপরাধেও যুক্ত ছিল সংস্থা। পরিস্থিতি বদলায় গত রবিবার, যখন উত্তরপ্রদেশের এক ১৬ বছরের কিশোরী কোনও রকমে পালিয়ে গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সে জানায়, কীভাবে তাকে কিনে এনে জোর করে অন্য পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিতে চাওয়া হচ্ছিল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, পুলিশ হানা দেয় সংস্থার ডেরায় এবং গ্রেফতার করে গায়ত্রী বিশ্বকর্মা সহ আরও তিন জনকে।
এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামের একাংশ জানাচ্ছেন, সংস্থার অফিসটি গ্রাম থেকে অনেকটা দূরে, তাই এত দিন বিষয়টি তাঁদের নজরে আসেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, মানব পাচার, জাল নথি তৈরি এবং শিশু সুরক্ষা আইনে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া মেয়েদের কাউন্সেলিং ও সুরক্ষার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, তথাকথিত সমাজসেবার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পাচারচক্রগুলিকে কীভাবে রোখা যাবে? প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও স্থানীয় সচেতনতাই এখন একমাত্র ভরসা।
