ডিজিটাল ডেস্কঃ অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি এবং তার জেরে ঋণের বোঝা—এই দুইয়ের মারে অবসাদে ভুগে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল এক কলেজ পড়ুয়া। মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের গাড়ুঘাটা এলাকার ক্ষুদিরাম বসু কলেজ অফ ফার্মেসির ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার হল ২২ বছর বয়সি অভিজিৎ পাত্রর ঝুলন্ত দেহ।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিজিৎ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার কাপাসদা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে তিনি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং হস্টেলের আবাসিক ছিলেন। সহপাঠীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঘরের অন্য দুই রুমমেট বাইরে যাওয়ার পর থেকেই অভিজিৎকে আর দেখা যায়নি। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কোনও খোঁজ না মেলায় এবং ফোনে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় সন্দেহ জাগে। এরপর দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখা যায়, সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে অভিজিৎ-এর দেহ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহিষাদল থানার পুলিশ। উদ্ধার হয় একটি সুইসাইড নোটও। যদিও সেটির বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ স্কুলব্যাগে ছুরি-কন্ডোম! ব্যাগ তল্লাশিতে হকচকিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ
হস্টেলেরই আরেক ছাত্র মৃদুল পাল জানান, “আমি ওর পাশের রুমে থাকি। ওকে ফোনে পাচ্ছিলাম না, তাই নিরাপত্তারক্ষীকে বলি। পরে জেনেছি, ও আত্মহত্যা করেছে।” হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষী সুমন্ত দে বলেন, “অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানাই। পরে দরজা ভেঙে দেখা যায় অভিজিৎ ঝুলছে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা কলেজ চত্বরে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে অভিজিৎ বেশ কিছু ঋণে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই মানসিক চাপ থেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে সহপাঠীদের অনুমান।
মহিষাদল থানার ওসি নাড়ুগোপাল বিশ্বাস বলেন, “একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।” অভিজিৎ-এর মৃত্যু আরও একবার অনলাইন গেমের ভয়াবহতা এবং তার প্রভাবকে সামনে এনে দিল, এমনটাই মত সমাজের একাংশের।