বিনোদন
রেখার দাম্পত্য জীবনের ট্র্যাজেডি: ছ’মাসের মধ্যেই আত্মহত্যা করেন স্বামী মুকেশ আগরওয়াল
ডিজিটাল ডেস্কঃ বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে রেখার প্রেমকাহিনি নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। আর এই বিষয়ে ছোট বড় প্রায় সবারই জানা। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন যে, রেখার প্রতি গভীর মুগ্ধতায় ডুবে ছিলেন অমিতাভ বচ্চনের পুত্র। তবে তিনি অভিষেক বচ্চন নন, তিনি হলেন অমিতাভের ‘দত্তকপুত্র’। ২০০৩ সালের ‘বাগবান’ ছবিতে অমিতাভের দত্তকপুত্রের চরিত্রে অভিনয় করা সলমন খান।
রেখার প্রতি সলমনের অনুরাগের গল্পটি প্রকাশ্যে আনেন খোদ রেখা নিজেই। ২০১৪ সালে ‘সুপার নানি’ ছবির প্রচারের সময় তিনি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। শোয়ের সঞ্চালক ছিলেন সলমন। সেখানেই রেখা জানান, যখন সলমনের বয়স মাত্র সাত-আট বছর, তখন থেকেই তিনি রেখার পিছু পিছু ঘুরতেন। যেখানে রেখা যেতেন, সাইকেল চালিয়ে সেখানেই পৌঁছে যেতেন ছোট্ট সলমন।
আরও পড়ুনঃ ভর সন্ধ্যায় রায়গঞ্জের মদের দোকানে ভাঙচুর-লুঠপাট, আক্রান্ত সাংবাদিক
রেখার কথায়, সলমন এতটাই সরল ছিলেন যে, একসময় তাঁকে বিয়ে করার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছিলেন! শুধু তাই নয়, সেই কথা তিনি পরিবারের সকলকেও জানিয়েছিলেন। এই মজার স্মৃতিচারণার সময় সলমন হাসতে হাসতে বলেন, “আপনাকে বিয়ে করতে পারিনি বলেই এখনও বিয়ে হয়নি।” রেখাও মজার ছলে উত্তর দেন, “আমারও মনে হয়, একই কারণে বিয়ে হয়নি।” সলমন নিজেও স্বীকার করেন, রেখার প্রতি তাঁর টান বরাবরই ছিল। এমনকি, শুধুমাত্র তাঁকে দেখার জন্যই তিনি যোগ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন। সলমনের কথায়, “আমার যোগব্যায়ামের প্রতি কোনো আগ্রহ ছিল না। কিন্তু রেখা সেখানকার প্রশিক্ষক ছিলেন বলে আমি বন্ধুবান্ধব নিয়ে সেখানে ছুটে যেতাম।”
অন্যদিকে, রেখার ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচিত নয়। ১৯৯০ সালে দিল্লির ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়ালকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই নানা মতবিরোধ ও অশান্তি দানা বাঁধে। শোনা যায়, মানসিক চাপে ভুগছিলেন মুকেশ, যা তাঁদের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর, গভীর হতাশায় তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এই ঘটনাটি বলিউডের অন্যতম চাঞ্চল্যকর ঘটনা হয়ে ওঠে এবং রেখার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্তর আলোচনা শুরু হয়। এরপর থেকে রেখা নিজের জীবনকে ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ রেখেছেন, তবে বলিউডে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি আজও অমলিন।
