কলকাতা
মায়ের সঙ্গে পরিকল্পনা করেই খুন! ট্রলিতে উদ্ধার পিসি শাশুড়ির দেহ , তারপর…
পারিবারিক বিবাদের জের। এযেন মেগা ধারাবাহিকের চিত্রনাট্য! খুনের পর দেহ লোপাটের চেষ্টা মা-মেয়ের। পারিবারিক বিবাদে রাগের বসে পিসি শাশুড়িকে খুন। শুধু তাই নয় প্রমান হাপিস করার জন্য দেহ থেকে মাথা আলাদা করে, দেহের টুকরো করে গঙ্গায় ভাসাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক মা-মেয়ে। নীল রংয়ের ট্রলি ব্যাগ, তাতে ভরা পিসি শাশুড়ির দেহের টুকরো টুকরো অংশ। ঘটনা ঘিরেই মঙ্গলবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো কলকাতার কুমোরটুলি ঘাট চত্বরে। দুই মহিলাকে গঙ্গার ধারে ট্রলি ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেখেন স্থানীয়রা। আর তা দেখেই সন্দেহ হয় সকলের। ওই দুই মহিলার নাম ফাল্গুনী ঘোষ ও তার মা আরতি ঘোষ, তাঁরা সম্পর্কে মা-মেয়ে।
আরও পড়ুন – ভিআইপি-র গাড়ির জন্য রাস্তায় আলাদা সুবিধা নয়- মুখ্যমন্ত্রী
অবশ্য তাঁরা দাবি করেছিলেন যে, ব্যাগের মধ্যে কুকুরের দেহ রয়েছে। তা তাঁরা গঙ্গায় ভাসাতে এসেছেন। কিন্তু, স্থানীয়রা তা কিছুতেই মানতে চায়নি। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রলি খুলে দেখেন এক মহিলার মুণ্ডহীন তিন টুকরো করা দেহ। এরপরই আটক করা হয়েছে ওই দুই মহিলাকে। জিজ্ঞাসাবাদে দেহ লোপাটের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে কাজিপাড়া থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট।
এরপরই তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মধ্যমগ্রামের বীরেশপল্লী এলাকায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ী ভাড়া নিয়ে প্রায় আড়াই বছর ধরে বাস করছেন ফাল্গুনী ঘোষ ও তার মা আরতি ঘোষ। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না থাকায় ফাল্গুনী ঘোষ আলাদা বসবাস করতেন। ট্রলি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া দেহটি ফাল্গুনী ঘোষের পিসি শাশুড়ি সুমিতা ঘোষের। ১১ ই ফেব্রুয়ারি মধ্যমগ্রামে আসেন ৫৫ বছর বয়সী সুমিতা ঘোষ। সোমবার বিকেলে ফাল্গুনী ঘোষের সঙ্গে তার পিসি শ্বাশুড়ি সুমিতা ঘোষের।
সেসময় সুমিতা দেবীকে দেওয়ালে ধাক্কা দেন ফাল্গুনী ঘোষ। সাময়িক সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন সুমিতা দেবী। জ্ঞান ফিরতেই ফের ফাল্গুনী ঘোষ ইট দিয়ে আঘাত করে সুমিতা ঘোষের মাথা,ঘাড় ও গলায়।প্রবল আঘাতের কারনে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পরেন সুমিত দেবী।এরপর একটি ট্রলি ব্যাগের মধ্যে সুমিতা দেবীর নিথর দেহ ঢুকিয়ে রাখেন ফাল্গুনী ঘোষ ও তার মা আরতি ঘোষ।ট্রলি ব্যাগ নিয়ে মধ্যমগ্রামের বীরেশপল্লি থেকে ভ্যানে করে দোলতলা যান তারা।
দোলতলা থেকে গাড়ি করে বারাসতের কাজিপাড়া গিয়ে সেখান থেকে ট্রেনে করে শিয়ালদহ হয়ে ফাল্গুনী ঘোষ ও তার মা আরতি ঘোষ আহিরিটোলা ঘাটে পৌঁছয় বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।তবে শেষরক্ষা হলো না মৃতদেহ লোপাট করতে গিয়ে ধরা পরে যায় মেয়ে ও মা। এরপরই রণক্ষেত্র পরিস্থিতি নেয় কুমোরটুলি ঘাট চত্বর। পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় যে, পুরো বিষয়টি যে খুন এবং তার প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ জলে ভাসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। ধৃত মহিলাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। কি কারণে এই খুন? কেনই বা তাঁরা এমন কান্ড ঘটালো তা জানার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন – চিকিৎসকদের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষনা মুখ্যমন্ত্রীর
