পাকিস্তান
পুলিশের গুলিতে নিহত ১৩! সরকারবিরোধী বিক্ষোভে শাহবাজ প্রশাসনের রক্তাক্ত দমন
ডিজিটাল ডেস্কঃ ইসলামাবাদের পর এবার রক্ত ঝরল পাকিস্তানের মুরিদকে (Muridke)। সরকারবিরোধী (anti-government) আন্দোলন দমন করতে ফের কঠোর ও নির্মম পন্থা নিয়েছে শাহবাজ শরিফের (Shehbaz Sharif) প্রশাসন। সোমবার ভোরে মুরিদকে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন বিক্ষোভকারী (protesters), আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক।
গত শনিবারই ইসলামাবাদে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ১১ জন আন্দোলনকারী। এ নিয়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ২৪ ছাড়াল।
এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে কট্টরপন্থী ধর্মীয় সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (Tehreek-e-Labbaik Pakistan বা TLP)। সংগঠনটির অভিযোগ, শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির (Asim Munir) আমেরিকার (America) ইশারায় কাজ করছেন। গাজায় ইসরায়েলের (Israel) বর্বর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোনও অবস্থান না নিয়ে উল্টো ‘আমেরিকার পুতুল’ (puppet) হয়ে কাজ করছে পাকিস্তান সরকার।
এই অভিযোগে ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস (U.S. Embassy) ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিল টিএলপি। সেই লক্ষ্যে সোমবার মুরিদকে অবস্থান নেয় সংগঠনের হাজার হাজার সমর্থক। আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক অবরোধ (road blockade) করেন।
সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বিশাল পুলিশবাহিনী ওই এলাকায় চড়াও হয়। ছোড়া হয় তীব্র কাঁদানে গ্যাস (tear gas), রাবার বুলেট এবং তাজা গুলি। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৩ জন। আহত হন অন্তত ১৫০ জন, যাদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ শুধু গুলিই চালায়নি, বরং আগুন লাগিয়ে দেয় বেশ কয়েকটি দোকান ও গাড়িতে। পরিস্থিতির চাপে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে, টিএলপির প্রধান সাদ রিজভির (Saad Rizvi) কোনো খোঁজ মিলছে না বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকার এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
প্রসঙ্গত, ইসলামাবাদে রেড জোন (Red Zone) এলাকা এবং মার্কিন দূতাবাস ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। লাহোর, করাচি ও পেশোয়ারের (Lahore, Karachi, Peshawar) মার্কিন কনস্যুলেটগুলোতেও সতর্কতা জারি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই দমনমূলক পদক্ষেপ (repressive measures) পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।


