বিশ্বের খবর
পহেলা বৈশাখে শান্তির বার্তা ইউনূসের, চট্টগ্রামে ভাঙচুরে ছায়া অশান্তির
ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে সোমবার থেকে শুরু হল নতুন বাংলা বছর। উৎসবের আমেজে ‘পহেলা বৈশাখ’ উদ্যাপনের আবহে দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথাও, যা তাঁর মতে একটি নতুন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথ খুলে দিয়েছে।
এক বাণীতে ইউনূস বলেন, “পহেলা বৈশাখ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য। এটি মহামিলনের দিন, সম্প্রীতির দিন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসব আমাদের সকলকে একত্রিত করে। চলুন আমরা পুরনো গ্লানি, দুঃখ ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে এগিয়ে যাই।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থান আমাদের যে সুযোগ এনে দিয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক এই নববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার।”
আরও পড়ুনঃ “আগুন নিয়ে খেললে পুড়ে মরবেন—ইউনূসকে উদ্দেশ করে কড়া বার্তা হাসিনার”
তবে নববর্ষের এই আনন্দের মাঝেও অশান্তির ছায়া পড়ল চট্টগ্রামে। রবিবার রাতে ডিসি হিল এলাকায় নববর্ষের অনুষ্ঠানের মঞ্চে হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একদল দুষ্কৃতী মঞ্চে ভাঙচুর চালায় এবং ‘আওয়ামী লীগের দালালরা সাবধান’ বলে স্লোগান দেয়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাত জনকে আটক করে। যদিও সরকারিভাবে একে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলেই উল্লেখ করেছে প্রশাসন।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর সংখ্যালঘুদের উপর হামলা এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার অভিযোগও সামনে এসেছে একাধিকবার। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বারবার উঠে এসেছে সেই অভিযোগের কেন্দ্রে। নববর্ষে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ দেশ হোক—এই কামনা করি। মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের একে অপরের মতকে সম্মান করা উচিত।”
নববর্ষের শুরুতেই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সম্প্রীতির আহ্বান কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা সময় বলবে। তবে পহেলা বৈশাখে ইউনূস ও সেনা প্রধানের বার্তা স্পষ্টভাবে একটি শান্তিপূর্ণ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের দিশা দেখাচ্ছে।
