ঋতুমতী হওয়ায় পূজা করতে পারেনি! মস্তিষ্কে গেঁথে যাওয়া কুসংস্কারই কাল হলো গৃহবধূর
Connect with us

স্বাস্থ্য

ঋতুমতী হওয়ায় পূজা করতে পারেনি! মস্তিষ্কে গেঁথে যাওয়া কুসংস্কারই কাল হলো গৃহবধূর

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ চৈত্র নবরাত্রি উদ্‌যাপনের স্বপ্ন ছিল, কিন্তু ঋতুমতী হওয়ায় তাতে অংশগ্রহণ করতে না পারায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলেন উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির প্রিয়াংশা সোনি (৩৬)। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও এলাকায়। সমাজের এক অংশে প্রচলিত ‘ঋতুমতী নারীদের অপবিত্র’ বলেই নবরাত্রির মতো পবিত্র অনুষ্ঠানে তাঁদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়— এমন কুসংস্কারই এই মৃত্যুতে বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্বামী মুকেশ সোনি জানান, প্রিয়াংশা অনেক দিন ধরেই চৈত্র নবরাত্রির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘর সাজানো থেকে উপবাসের প্রস্তুতি— কিছুই বাদ দেননি। কিন্তু ঠিক উৎসবের প্রথম দিন, ৩০ মার্চ, তাঁর ঋতুস্রাব শুরু হয়। শৈশব থেকেই সংস্কারে বিশ্বাসী প্রিয়াংশা সিদ্ধান্ত নেন, তিনি পুজোয় অংশ নেবেন না। এই সিদ্ধান্ত মন থেকে মেনে নিতে না পেরে গভীর হতাশায় ডুবে যান।

আরও পড়ুনঃ রামনবমী মিছিলে অস্ত্রের প্রদর্শন নয়! বাইক-মিছিল, ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ খাওয়ার পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর স্বামী তাঁকে বাপের বাড়ি নিয়ে যান। সেখানেই ফের অবস্থার অবনতি হয়। হাসপাতালে ফের ভর্তি করানোর পর, শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো যায়নি তাঁকে।

Advertisement
ads

প্রিয়াংশার মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বলেছেন, “আমি ওকে বোঝাতে চেয়েছিলাম, ঋতুস্রাব কোনো অপরাধ নয়। আমি ওর হয়ে পুজোও করতাম। কিন্তু ও নিজের মনে ওই অপবিত্র তকমা নিতে পারেনি।” প্রিয়াংশা রেখে গেলেন তিন বছর ও দু’বছরের দুটি ছোট কন্যা সন্তানকে। এই ঘটনায় সমাজে এখনও কতটা কুসংস্কার এবং মানসিক চাপ কাজ করে, তা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বলেই মনে করছেন অনেকে।

Continue Reading
Advertisement