রাজ্যের খবর
একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু,পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়
মঙ্গলবার রাতে দূর্ঘটনার কবলে পরেছিলেন দুইভাই। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন হাসপাতালে।আর পুলিশ সেই দূর্ঘটনার তদন্তে নামতেই প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ট্যাংরা এলাকায় তাদের বাড়ি থেকে পুলিশ উদ্ধার করলে এক নাবালিকা সহ দুই মহিলার দেহ।
রক্তাক্ত তিন মৃতদেহ উদ্ধার হতেই আটক দূর্ঘটনাগ্রস্থ দুই ভাই। আত্মহত্যা তত্ব পুলিশের সামনে দাড় করানোর চেষ্টা চালালেও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুৃমান সন্তান ও দুই ভাইয়ের স্ত্রীকে খুন করে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন দুইভাই।ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ট্যাংরায় একই পরিবারের তিন জনের রহস্যমৃত্যু৷ ট্যাংরার ২৩/এ অটল সুর রোডে একই পরিবারের দুই মহিলা এবং একজন কিশোরীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়৷ দুই মহিলা এবং পরিবারের এক নাবালিকার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ির ঘর থেকে।
সন্তানসহ ওই দুই মহিলা আত্মঘাতী হয়েছেন না কি এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷তবে কিভাবে এমন ঘটনা পুলিশের নজরে এল? জানা গিয়েছে,মৃত দুই মহিলার স্বামী মঙ্গলবার রাতে তাদের এক নাবালক সন্তানকে নিয়ে গাড়ি করে বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিলেন। গড়ফার কাছে দুর্ঘটনায় জখম হন দুজনই।গড়ফা থানা এলাকায় মেট্রোর পিলারে ধাক্কা দেয় তাদের গাড়ি।
আরও পড়ুন – কুম্ভ থেকে ফেরার পথে দূর্ঘটনায় মৃত্যু, শোকের ছায়া এলাকায়
তাতেই দুই ভাই জখম হয়ে ইএম বাইপাসের ধারে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পেয়ে দূর্ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল তা জানতে শুরু হয় পুলিশি জেরা। পুলিশি জেরায় দুই যুবক জানায়,তাদের নাম প্রসূন দে এবং প্রণয় দে। সম্পর্কে তারা দুই ভাই।বাড়িতে আত্মঘাতী হয়েছেন বড় ভাই প্রনয় দের স্ত্রী সুদেষ্ণা দে এবং ছোট ভাই প্রসূন দের স্ত্রী রোমি দে। তাঁরাও আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন।
তাদের এমন বক্তব্যে সন্দেহ তৈরী হয় পুলিশের।এরপরই তাদের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ।ঘর থেকে উদ্ধার হয় ২ মহিলার রক্তাক্ত দেহ। কাটা রয়েছে হাতের শিরা।ওই দুই মহিলার দেহের পাশেই মৃত অবস্থায় পরে রয়েছে আরও এক নাবালিকার দেহ।পুলিশ মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
বুধবার সকালে ট্যাংরার হাড়হিম করা এমন কান্ড প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পরে এলাকায়। তবে দুইভাই পরিকল্পনা করে স্ত্রী ও সন্তানকে খুন করে গা ঢাকা দিতেই কি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন?নাকি সন্তানসহ দুই মহিলা সত্যিই আত্মঘাতী হয়েছেন। তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আটক করা হয় প্রসূন দে এবং প্রণয় দে দুইভাইকে।ওই পরিবারের লেদারের ব্যবসা ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা নয়, সন্তান ও স্ত্রীদের খুন করে থাকতে পারেন অভিযুক্ত দুভাই।
তারপর পুলিশের হাত থেকে গা ঢাকা দিতেই দুই ভাই পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দূর্ঘটনায় আহত হওয়ার কারনে পুলিশের জালে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। খুন না কি আত্মহত্যা? ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই গোটা বিষয়টা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।তবে ঘটনার পিছনে অন্য কোনও রহস্য আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷
এদিন ঘটনাস্থলে নিজের পাওনা টাকার জন্য আসেন লেদার ব্যবসায়ী মনোজ কুমার গুপ্ত।তিনি বলেন,তার কিছু টাকা পাওনা ছিল সেই টাকার জন্য তিনি মঙ্গলবার সকাল থেকে এই বাড়িতে আসছেন কিন্তু কখনওই বাড়ির কারও সঙ্গে দেখা হয় নি তাঁর।বাড়ির কলিং বেল বাজালেও কেউ সাড়া দেয় নি।
মৃতদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে আসেন লালবাজারের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরা৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছোন কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি ক্রাইম রূপেশ কুমার৷খুন নাকি ব্যবসায় লোকসানের ফলে ঋণে জর্জরিত হওয়ার কারনেই এমন ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
আরও পড়ুন – একই পরিবারের তিনজনের রহস্য মৃত্যু, চাঞ্চল্য এলাকায়
