পরিবেশ
হাওড়ায় উঠছে দেশের সর্বোচ্চ নজর মিনার, থাকবে ঘূর্ণায়মান রেস্তরাঁ ও পর্যবেক্ষণ মঞ্চ
ডিজিটাল ডেস্কঃ হাওড়ায় তৈরি হচ্ছে ভারতের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার, যা দিল্লি ও মুম্বাইয়ের বর্তমান উঁচু টাওয়ারগুলোকে পিছনে ফেলে দেবে। এই বিশালাকৃতি টাওয়ারটির নাম রাখা হয়েছে ‘পঞ্চদীপ টাওয়ার’। এটি একাধিক আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে, যা দেশের অন্যান্য স্মারক স্থানের তুলনায় একটি নতুন মাইলফলক হয়ে উঠবে।
উচ্চতা এবং স্থাপন
পঞ্চদীপ টাওয়ারের উচ্চতা হবে প্রায় ১২০ মিটার, যা কুতুব মিনারের চেয়ে ৩৮ মিটার বেশি এবং নিউটাউনের বিশ্ববাংলা গেটের দ্বিগুণ উচ্চতায় হবে। কলকাতার শহিদ মিনারের থেকেও এটি অনেক বেশি উঁচু। টাওয়ারটি নির্মিত হচ্ছে হাওড়ার বেলিলিয়াস পার্কে, যা ডুমুরজলা, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ও হাওড়া ময়দান বাইপাসের কাছেই অবস্থিত।
নির্মাণ এবং ডিজাইন
এই টাওয়ারের ডিজাইন তৈরি করেছে IIEST শিবপুর, এবং নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে একটি বেসরকারি গ্রুপ, যা হাওড়া পুরনিগমের তত্ত্বাবধানে কাজ করছে। এই টাওয়ারে থাকছে একাধিক আধুনিক সুবিধা, যার মধ্যে ১১২ মিটার উচ্চতায় পর্যবেক্ষণ মঞ্চ রয়েছে। এখান থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের দৃশ্য দেখা যাবে, যেখানে কলকাতার একাংশ, নিউটাউন, সল্টলেক, হুগলি ও হাওড়া এলাকার বিস্তীর্ণ দৃশ্য ফুটে উঠবে। এই মঞ্চে চারটি শক্তিশালী টেলিস্কোপ থাকবে, যার মাধ্যমে পর্যটকরা আশেপাশের এলাকা আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পারবেন।
রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য সুবিধা
এই টাওয়ারে একটি ঘূর্ণায়মান রেস্তোরাঁ থাকবে, যা টাওয়ারের উপরে অবস্থিত। এখান থেকে দর্শকরা হাওড়া, হুগলি ও কলকাতার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। ১০৪ মিটার উচ্চতায় একটি রেস্তোরাঁ থাকবে এবং একে ঘিরে একটি বিশাল ব্যাঙ্কোয়েট হলও রয়েছে। এছাড়াও, দুটি ডেক থাকবে, একটি ২৫ মিটার এবং আরেকটি ৫০ মিটার উচ্চতায়।
অত্যাধুনিক লিফট সুবিধা
পঞ্চদীপ টাওয়ারে ওঠার জন্য দুটি অত্যাধুনিক হাইস্পিড লিফট থাকবে, যেগুলো প্রতি সেকেন্ডে তিন মিটার গতিতে উপরে উঠতে সক্ষম। প্রতি লিফটে ১৫ জন যাত্রী একসঙ্গে উঠতে পারবেন, এবং মাত্র ৫০-৬০ সেকেন্ডে উপরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বিশাল কাঠামো এবং শক্তিশালী নির্মাণ
এই টাওয়ারটি অত্যন্ত শক্তপোক্তভাবে নির্মিত হচ্ছে। মাটির নিচে প্রায় ৩৫ মিটার গভীরতায় এটি প্রতিষ্ঠিত, যার ফলে ভূমিকম্পের মত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ও এটি নিরাপদ থাকবে। মোট ১৬৯টি পাইলিং করা হয়েছে এবং ১৪০০ টন স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে এর কাঠামো তৈরি করতে।
পঞ্চদীপ টাওয়ারটি শুধু একটি স্মারক স্থান হবে না, বরং এটি হাওড়া ও কলকাতার জন্য এক নতুন আকর্ষণ এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এটি স্থানীয় অর্থনীতিকে নতুন করে উদ্দীপনা দেবে এবং দর্শকদের জন্য একটি অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠবে।
