আবহাওয়া
কলকাতায় পাঁচ ঘণ্টার বৃষ্টিতে সাতজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ভয়াবহ পরিণতি
ডিজিটাল ডেস্কঃ মাত্র পাঁচ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে (Heavy Rainfall) মৃত্যু হল সাতজনের। জলমগ্ন (Waterlogged) কলকাতার একাধিক এলাকায় খোলা বিদ্যুৎ তার (Exposed Electric Wires) হয়ে উঠল মৃত্যুফাঁদ (Death Trap)। ভোররাত থেকে বৃষ্টির শুরু, আর সকাল গড়াতেই একের পর এক মৃত্যুর খবর।
প্রথম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে নেতাজিনগরে (Netajinagar)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তি ছিলেন এক ফল বিক্রেতা। ভোরে সাইকেল (Bicycle) নিয়ে কাজে বেরোনোর সময় রাস্তার জলের তোড়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়েন, নিজেকে সামলাতে একটি বিদ্যুৎ খুঁটিতে হাত রাখতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
এরপর বেনিয়াপুকুর (Beniapukur) ও একবালপুর (Ekbalpur)—এই দুই জায়গায় আরও দু’জন পথচারী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। বেনিয়াপুকুরে একটি বিখ্যাত মিষ্টির দোকানের সামনে উদ্ধার হয় মৃতদেহ।
চতুর্থ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বালিগঞ্জের (Ballygunge) ফুটপাথে। সকালবেলা স্থানীয়রা রাস্তায় পড়ে থাকা দেহটি দেখতে পান। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মারা গিয়েছেন।
এইসব ঘটনায় শহরজুড়ে যখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই হরিদেবপুর কবরডাঙ্গা (Kabardanga) থেকে আরও এক মৃত্যুর খবর। জানা যায়, ওই ব্যক্তি একটি কারখানায় (Factory) কর্মরত ছিলেন। সকালে শাটার খোলার সময় বিদ্যুৎ মিটার (Electric Meter) অন করতেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।
এছাড়া বেহালা (Behala) ও গড়িয়াহাট (Gariahat) থেকেও প্রাণহানির খবর এসেছে।
এই মুহূর্তে যা উদ্বেগের
-
শহরের অনেক রাস্তায় এখনোও বিদ্যুতের খোলা তার রয়েছে
-
রাস্তায় জমে থাকা জল থেকে দেখা যাচ্ছে না কোথায় কী বিপদ লুকিয়ে
-
প্রশাসনের তরফে এখনো পর্যন্ত কোন সুনির্দিষ্ট সতর্কতা নেই
ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে—শহরের অব্যবস্থাপনা, অনিরাপদ বৈদ্যুতিক লাইন (Unsafe Wiring), এবং মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ (Man-Made Disaster) ঠিক কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে?


