ভারতের ‘টাইগার ম্যান’ হিসেবে পরিচিত এই বিশিষ্ট প্রকৃতি সংরক্ষককে মনে রাখা হবে তাঁর দৃঢ় কণ্ঠ, স্পষ্টভাষী মনোভাব এবং বাঘের প্রতি অগাধ ভালোবাসার জন্য। বাঘ সংরক্ষণ নিয়ে তাঁর বিখ্যাত উক্তি ছিল— “এ দেশে আমলাতন্ত্র যত বাঘ মেরেছে, গুলিতেও তত বাঘ মরেনি।”
প্রায় পাঁচ দশক ধরে ব্যাঘ্র সংরক্ষণকে নিজের জীবনের ব্রত করে তুলেছিলেন বাল্মীক থাপার। ছিলেন ন্যাশনাল বোর্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ (National Board for Wildlife)-এর সদস্য এবং টাইগার টাস্ক ফোর্স (Tiger Task Force)-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। রাজস্থানের রণথম্ভোর (Ranthambhore) অঞ্চলে বাঘ রক্ষায় তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য করা হয়।
আরও পড়ুনঃ অডিয়ো ক্লিপ কাণ্ডে হাজিরা এড়ালেন অনুব্রত, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে দায় এড়ানোর অভিযোগ
১৯৮৭ সালে গড়ে তোলেন রণথম্ভোর ফাউন্ডেশন (Ranthambhore Foundation)—একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, যার মূল লক্ষ্য ছিল বাঘ রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মানুষদের জীবিকার সুরক্ষা এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ‘দস্তকার’ (Dastkar) নামক আরেকটি সংগঠনের সঙ্গেও কাজ করেছেন, যা হস্তশিল্পের মাধ্যমে স্থানীয়দের ক্ষমতায়নে সহায়ক।
মুম্বইয়ে ১৯৫২ সালে জন্ম বাল্মীকের। সাংবাদিক পরিবারে মানুষ—তাঁর পিতা রমেশ থাপার (Ramesh Thapar) এবং মাতা রাজ থাপার (Raj Thapar) ছিলেন রাজনৈতিক পত্রিকা ‘সেমিনার’-এর (Seminar) সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সেই পরিবারের উত্তরসূরিই হয়ে ওঠেন প্রকৃতি সংরক্ষণের অন্যতম সেরা কণ্ঠস্বর।
একাধারে ছিলেন লেখক ও প্রাবন্ধিকও। বাঘ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক জীবনের উপর তাঁর লেখা বইয়ের সংখ্যা ৩২-এরও বেশি। ২০১২ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনী ‘Tiger: My Life, Ranthambhore and Beyond’-এ লিখেছিলেন—
“আমার সংগ্রাম, আমার লক্ষ্য এমন এক নিঃশব্দ, নির্জন এলাকা সৃষ্টি করা, যেখানে বাঘ বাঁচবে স্বাধীনভাবে—মানবহীন এক পরিবেশে।”
বাল্মীক থাপারের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh)। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লেখেন, “গত চার দশকের এক কিংবদন্তি সংরক্ষণকর্মী চলে গেলেন। বাঘ সংরক্ষণে তাঁর অবদান অপূরণীয়। আজকের রণথম্ভোর তাঁর অক্লান্ত প্রয়াসের সাক্ষ্য।”
দেশের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাঁর মতো একনিষ্ঠ যোদ্ধার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। [shortened_url]