রাজনীতি
“প্রমাণ জোগাড় করছি, কাউকে ছাড়ব না”, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতাকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!
একুশে জুলাইয়ের সভার অধিকার এবং ফিরহাদ হাকিমের গ্রেফতারি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে তরজার মাঝেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দোয়াত’ সম্বোধন করে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
শাসকদলের অন্দরে ফাটল কি আরও চওড়া হচ্ছে? একুশে জুলাইয়ের সভা (meeting) পালন নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা। এর মধ্যেই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি নিয়ে সোমবার বিধানসভা অধিবেশনে (assembly session) প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং দোলা সেনদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও এক বিস্ফোরক বার্তা দিলেন তিনি।
সম্প্রতি তারাতলায় কারখানা বিপর্যয়ে নাম জড়িয়েছে ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তোলাবাজির (extortion) অভিযোগে বর্তমানে তিনি জেলে (jail)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুণাল ঘোষ আবার ফিরহাদ ওরফে ববি হাকিমের গ্রেফতারির দাবি তুলেছিলেন। সোমবার অধিবেশন চলাকালীন কুণালকে কটাক্ষ (satire) করে শুভেন্দু বলেন, “একজন আবার বলছেন বিকেল পাঁচটার মধ্যে ববিকে গ্রেফতার করতে হবে।” এরপরই রসিকতা করে কুণালকে শুভেন্দুর পরামর্শ, তাহলে তিনি এসে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসুন।
তবে আসল চমক ছিল এর পরেই। শুভেন্দু অধিকারী কালী-পেন-দোয়াতের একটি অদ্ভুত সমীকরণ টেনে বলেন, “আর একজন বলছেন— কালী তো গেছে, দোয়াত আর পেন যায়নি কেন? আরে পেন যদি ফিরহাদ হাকিম হয়, তাহলে দোয়াতের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সঙ্গে যদি পেনও যায়, তাহলে দোয়াতকেও যেতে হবে। একসঙ্গে সবাইকে যেতে হবে।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তিনি ঘুরিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গ্রেফতারির (arrest) ইঙ্গিত দিলেন?
যদিও পরক্ষণেই সুর নরম করে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার প্রমাণ (evidence) ছাড়া কোনো পদক্ষেপ করবে না। তিনি স্পষ্ট জানান, “জোগাড় করছি প্রমাণ। থাকলে কাউকে ছাড়ব না। আমরা কোনো ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে কিছু করব না।” শুভেন্দুর এই কালী-দোয়াতের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা (speculation) শুরু হয়েছে।
