বিশ্বের খবর
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের কুখ্যাত ডবল ট্যাপ বিমান হামলা: শিশুসহ নিহত অন্তত ৩৫
করাচি হামলার বদলা নিতে আফগানিস্তানে মাঝরাতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালাল পাকিস্তান। প্রথম দফার বোমাবর্ষণের পর উদ্ধারকাজ চলার সময় কুখ্যাত ‘ডবল ট্যাপ’ কৌশলে দ্বিতীয়বার হামলা চালায় পাক বায়ুসেনা। শিশু ও মহিলাসহ নিহত অন্তত ৩৫, আহত শতাধিক।
করাচিতে আধাসেনার দপ্তরে হওয়া জঙ্গি হামলার বদলা নিতে এবার প্রতিবেশী রাষ্ট্র আফগানিস্তানের মাটিতে মারণ আঘাত হানল পাকিস্তান। রবিবার গভীর রাতে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজৌরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে (Border Area) ভয়ানক বিমান অভিযান চালায় পাক সেনা। এই নৃশংস হামলায় শিশু ও মহিলাসহ অন্তত ৩৫ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই অভিযানে অত্যন্ত কুখ্যাত ও বিতর্কিত ‘ডবল ট্যাপ’ (Double Tap) কৌশল ব্যবহার করেছে পাক বায়ুসেনা, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে।
কী এই কুখ্যাত ‘ডবল ট্যাপ’ হামলা?
সামরিক পরিভাষায় (Military Terminology) ‘ডবল ট্যাপ’ হামলা হলো এমন একটি যুদ্ধকৌশল, যেখানে একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্রাথমিক আক্রমণের (Initial Attack) ঠিক অল্প সময়ের মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। প্রথম দফার বোমাবর্ষণের পর যখন উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসক, সাংবাদিক কিংবা স্থানীয় সাধারণ মানুষ আক্রান্তদের বাঁচাতে ছুটে আসেন, ঠিক তখনই দ্বিতীয় আঘাতটি হানা হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে এই কৌশলকে অত্যন্ত নিন্দাজনক এবং ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
মাঝরাতের ধ্বংসলীলা: টার্গেট যখন সাধারণ মানুষ
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত ১২:৩০ নাগাদ পাকিস্তানের বিমানবাহিনী (Air Force) এই আকস্মিক অভিযান শুরু করে। মূলত আফগানিস্তানের তিনটি জেলাকে নিশানা করা হয়েছিল— পাকতিকার জ্ঞান, পাকতিকার চমকানি এবং কুনারের মারাওয়াড়া জেলা। জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশির অজুহাত দেওয়া হলেও, বাস্তবে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি এবং মসজিদ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।
রাত ১২:৫৫ নাগাদ এই তিন জেলায় প্রথম দফায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ (Bombing) করা হয়। ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার পর স্থানীয় গ্রামবাসীরা যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মহিলা ও শিশুদের উদ্ধারের (Rescue Operation) কাজে হাত লাগান, ঠিক তার ২৫ মিনিট পর ফিরে আসে পাক যুদ্ধবিমানগুলো। পরিকল্পিতভাবে (Planned) দ্বিতীয়বার বোমাবর্ষণ শুরু হতেই বধ্যভূমিতে পরিণত হয় এলাকা। এই দ্বিতীয় দফার আঘাতেই মৃতের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে যায়। বর্তমানে শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত (Injured) অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আক্রমণের পটভূমি ও কূটনৈতিক তরজা
গত শনিবার রাতে পাকিস্তানের করাচিতে আধাসেনার দপ্তরে এক আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা ঘটে, যাতে ৩ পাক জওয়ানের মৃত্যু হয় এবং সেনার গুলিতে ৩ হামলাকারীও নিহত হয়। এই ঘটনার দায় স্বীকার করে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-র ছায়াগোষ্ঠী ‘জামাত-উল-আহরার’। পাকিস্তান দাবি করে, এই সন্ত্রাসবাদীদের আফগানিস্তান আশ্রয় দিয়েছে। যদিও আফগান প্রশাসন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে (Territory) কোনো সন্ত্রাসবাদীকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি।
পাশাপাশি, এই হামলার নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে বলেও অবান্তর দাবি তোলে ইসলামাবাদ। তবে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ (Evidence) তারা দিতে পারেনি। এই বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (Ministry of External Affairs) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন,
“অন্যের দিকে আঙুল তোলা বন্ধ করে পাকিস্তানের উচিত তাদের নিজেদের ভূখণ্ডের ভিতরে দিনের পর দিন ধরে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের (Terrorist Network) বিরুদ্ধে বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করা।”
এই তীব্র আন্তর্জাতিক ডামাডোলের মাঝেই আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের এই ন্যক্কারজনক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।
