‘বিজেপি আসতেই সব বাবুরা আরএসএস’, আমলাদের নিয়ে বিস্ফোরক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়
Connect with us

রাজনীতি

‘বিজেপি আসতেই সব বাবুরা আরএসএস’, আমলাদের নিয়ে বিস্ফোরক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়

“সবাই এখন সঙ্ঘের হাফপ্যান্ট পরার গল্প শোনান!” বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সরকারি অফিসারদের ভোলবদল নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করলেন মধ্যপ্রদেশের প্রভাবশালী মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়বর্গীয়।

Dipa Chakraborty

Published

on

মধ্যপ্রদেশের বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা ক্যাবিনেট মন্ত্রী (Cabinet Minister) কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপির এই প্রভাবশালী নেতার দাবি, রাজ্যে গেরুয়া শিবির ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি অফিসার এবং কর্মচারীদের মধ্যে রাতারাতি ‘সঙ্ঘী’ বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) অনুগামী হওয়ার প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে। যে আমলাই এখন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসছেন, তিনিই নাকি প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে তাঁর সঙ্গে আরএসএস-এর পুরনো নাড়ির টান রয়েছে।

ভোপালে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে (Program) বক্তব্য রাখার সময় কৈলাশ বিজয়বর্গীয় স্পষ্ট বলেন, আজকাল সরকারি বাবুরা দেখা করতে এলেই নিজেদের বা তাঁদের পরিবারের সঙ্ঘ-যোগের গল্প শোনাতে শুরু করেন। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে মধ্যপ্রদেশের এই দাপুটে মন্ত্রী বলেন, “এখন তো আমরা সরকারে (Government) আছি। তাই যে অফিসারই আমার কাছে আসছেন, তিনিই বলছেন— ‘স্যার, যখন শাহজাপুরে পোস্টিং ছিলাম, তখন মাখন সিং-এর শাখায় যেতাম।’ সবাই প্রমাণ করতে ব্যস্ত যে তাঁরাও বেল্ট পরেছেন, ব্যান্ড বেঁধেছেন, আর সঙ্ঘের খাকি হাফপ্যান্টও পরেছেন! আমাদের সরকার আসার পর সবাই যেন সঙ্ঘের লোক হয়ে গেছেন। প্রতিটি অফিসারই এখন সঙ্ঘী!”

এখানেই শেষ নয়, কৈলাশ বিজয়বর্গীয় আরও যোগ করেন, “এক অফিসার আমাকে এসে বললেন, তাঁর বাবা নাকি সঙ্ঘের শাখায় যেতেন। অন্য একজন বললেন, তাঁর বাবা তো শাখার প্রধান (Chief) ছিলেন। চারিদিকে এখন মারাত্মক ভিড়। সঙ্ঘের সঙ্গে নিজেদের যোগসূত্র প্রমাণ করার জন্য সবার নিজস্ব একটা না একটা কায়দা রয়েছে।”

তবে প্রশাসনের এই উপচে পড়া ভিড় নিয়ে মোটেও আহ্লাদিত নন এই প্রবীণ বিজেপি নেতা। বরং সঙ্ঘের এই সংখ্যাবৃদ্ধির আড়ালে কোথাও যেন মূল আদর্শের (Ideology) মান পড়ে যাচ্ছে, এমনটাই আশঙ্কা তাঁর। আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তির মুখে দাঁড়িয়ে দলের অভ্যন্তরেই আত্মদর্শনের (Self-reflection) ডাক দিলেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সঙ্ঘের কাজ শুধু লোক বাড়ানো নয়, সমাজে ‘ভালো মানুষ’ তৈরি করা। বিজয়বর্গীয়র কথায়, “আজ সব জায়গাতেই ভিড়, কিন্তু ভাল মানুষের বড্ড অভাব। সংগঠন বাড়ছে, বলা যেতে পারে মতাদর্শেরও বিস্তার ঘটছে। কিন্তু যদি ভাল মানুষই তৈরি না হয়, তবে সেই মতাদর্শের কী গুরুত্ব রইল? এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের সবারই একটু ভাবা দরকার।”

Advertisement
ads ads

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ যখন নিজেদের ১০০ বছর উদযাপন (Centenary Celebration) করছে, ঠিক তখনই খোদ সঙ্ঘ পরিবারের অন্দর থেকে কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র এই ‘সুসময়ের সঙ্ঘী’দের নিয়ে কটাক্ষ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ (Significant) মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে যখন বিরোধী শিবির (Opposition) সঙ্ঘকে নিয়ে প্রতিনিয়ত সুর চড়াচ্ছে।

কয়েক দিন আগেই কর্ণাটকের মন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্ক খাড়গে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে একটি খোলা চিঠি (Open Letter) লিখেছিলেন। সঙ্ঘের আইনি মর্যাদা, আর্থিক উৎস, পদাধিকারীদের তালিকা এবং সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। যদিও খাড়গের সেই দাবিকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক চমক’ (Political Stunt) বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর সাফ কথা, এই ধরনের চিঠির জবাব দেওয়ার কোনও প্রয়োজনই তিনি মনে করেন না। কিন্তু তার মাঝেই বিজয়বর্গীয়র এই বিস্ফোরক মন্তব্য আমলাতন্ত্রের সুবিধাবাদী চরিত্রকে আরও একবার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।

Continue Reading
Advertisement ads