রাজনীতি
‘এ রকম লাগামছাড়া কথা বলতে দেবো না’ বিধায়ক হুমায়ুনকে চরম বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের লাগামছাড়া মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিধানসভায় ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানালেন, কোনো উস্কানিমূলক কথা বিজেপি সরকার বরদাস্ত করবে না। ইতিমদ্ধেই ২টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
কলকাতা: মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে এবার বিধানসভায় (Assembly) তীব্র প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের উস্কানিমূলক (Provocative) কথাবার্তা এই সরকার কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইন অমান্য করায় হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ২টি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
হুমায়ুনকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি কান খুলে শুনে রাখুন, এই ভাবে ধমক, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেবো না, দেবো না, দেবো না। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর।” বিধান কক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা ধরে রাখতে পারেন এটা ওঁর শেষ বক্তব্য। এ সরকার আইনের শাসন (Rule of law) প্রতিষ্ঠা করবে, গুন্ডাদের শাসন সমাপ্ত করবে।”
নেপথ্যে রাজনৈতিক এজেন্ডা: শুভেন্দুর দাবি
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা (Political agenda) থেকে মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক এই ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছেন। তিনি দাবি করেন, ভরতপুর, রেজিনগর ও নওদার সমস্ত নির্বাচিত পঞ্চায়েত ভেঙে সেই সদস্যদের নিজের দল ‘এজেইউপি’ (AJUP)-তে নিয়ে যেতে চান হুমায়ুন, যা তিনি করে উঠতে পারছেন না। দ্বিতীয়ত, রেজিনগর আসন থেকে পদত্যাগ (Resign) করায় আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন (By-election) হবে। ওই আসনে নিজের ছেলেকে জেতাতেই ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক টানার এই ‘খেলা’ খেলছেন বিধায়ক।
সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাকে পরিষ্কার বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। আমি আপনাকে বলে গেলাম, আমরা ২টো FIR করেছি—একটা রেজিনগর থানায়, একটা শক্তিপুর থানায়।” বিজেপি (BJP) সরকার যে এসব বরদাস্ত করবে না, তা বোঝাতে সন্দেশখালি ও ক্যানিংয়ের কয়েকজন পুরোনো অপরাধীর বর্তমান পরিণতির উদাহরণও (Examples) টেনে আনেন তিনি।
কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর?
গত ৮ জুন শক্তিপুরে এবং ২৬ জুন রেজিনগরের দলীয় সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে বিতর্ক উস্কে দেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেছিলেন, “যে দিন ময়দানে নেমে যাব সে দিন আপনাদের পতাকা ধরার লোক থাকবে না। আমি নিজেই নেতৃত্ব (Leadership) দিয়ে লাখ লাখ লোককে রাস্তায় নামাব, আর স্যাটাভাঙা মার দেবো। আমার মাথা যে দিন গরম হয়ে যাবে, সে দিন আমি এসপি-ও বুঝব না, মুখ্যমন্ত্রীও বুঝব না।”
এই প্রসঙ্গের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি নিজেই আগামী সপ্তাহে মুর্শিদাবাদ যাচ্ছেন। পুলিশ আইনের পথেই চলবে। তিনি সভাকে আশ্বস্ত করে বলেন, “প্রমাণ করে দেবো, ভারতবর্ষের সংবিধান (Constitution), আইনই শেষ কথা বলে। কোনো বাতেলাবাজ শেষ কথা বলে না।”
আত্মপক্ষ সমর্থনে হুমায়ুন কবীর
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বক্তব্যের পর পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও। তিনি দাবি করেন, “আমি তো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি বিজেপিকে বলেছি। নবাগত বিজেপিরা আমার বাড়ির কাছে গিয়ে আমাকে আক্রমণ করেছে। আমি কী করব? রাজনৈতিক ভাবে আমি আক্রমণ করব না? কার কাছে উনি ক্ষমা চাইতে বলছেন, তা তিনি স্পষ্ট করুন। যদি সেটা বলার হয়, নিশ্চয়ই বলব।”
