দেশের খবর
ইরান-গাজা নিয়ে নীরবতা! মোদি সরকারের নীতিকে তীব্র আক্রমণ সোনিয়া গান্ধির
ডিজিটাল ডেস্ক: ইজরায়েলের (Israel) হামলা নিয়ে ভারত সরকারের ‘নিঃশব্দতা’ এবং পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতিতে দেশের ‘নৈতিক পতন’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধি (Sonia Gandhi)। শনিবার ‘দ্য হিন্দু’ (The Hindu) পত্রিকায় ‘It Is Still Not Too Late for India’s Voice to Be Heard’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে মোদি সরকারের (Narendra Modi Government) বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, ভারত আজ নিজের কণ্ঠস্বর হারিয়েছে, মূল্যবোধকেও বিসর্জন দিয়েছে।
সোনিয়া গান্ধি লিখেছেন, “গাজায় (Gaza) ধ্বংসযজ্ঞের সময় যেমন ভারত নীরব থেকেছিল, ঠিক তেমনই ইরানের (Iran) উপর বিনা প্ররোচনায় হামলার পরেও নীরবতা পালন করেছে। ভারতের এই নীরবতা দেশের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক নীতি এবং নৈতিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত।” তাঁর দাবি, “এটি শুধু কণ্ঠস্বর হারানো নয়, বরং মূল্যবোধের আত্মসমর্পণ।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের এখনই স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। দায়িত্ববান দেশের মতো শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) সংঘাত প্রশমিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে।”
প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুন ইজরায়েল তেহরানের (Tehran) পারমাণবিক কেন্দ্র ও সেনা ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায়। এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কংগ্রেস নেত্রী বলেন, “ইজরায়েল বেআইনি এবং বিপজ্জনক হামলা চালিয়েছে। এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি আঘাত। এর ভয়াবহ ফলশ্রুতি গোটা বিশ্বকে বইতে হতে পারে।”
আরও পড়ুনঃ নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে, মেয়েকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে শ্রাদ্ধ করল পরিবার!
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) নেতৃত্বে শান্তি ধ্বংসের রাজনীতি চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। সোনিয়া গান্ধির কথায়, “নেতানিয়াহু আলোচনার বদলে সংঘাত বাড়াতে বিশ্বাসী। ইজরায়েলের নৃশংস হামলা সাধারণ মানুষ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এর মারাত্মক মূল্য দিতে হবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও (Donald Trump) একহাত নেন সোনিয়া গান্ধি। তিনি লিখেছেন, “গত ১৭ জুন ট্রাম্প তাঁর গোয়েন্দা বিভাগের মতামত অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, ইরান শীঘ্রই পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে। এই মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অযৌক্তিক।”
সোনিয়া গান্ধির দাবি, ইরান বহু সময় ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পাশে থেকেছে। তিনি ১৯৯৪ সালে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আটকে দেওয়ার সময় ইরানের ভূমিকাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “ইরানের বর্তমান সরকার ভারতের প্রতি অনেক বেশি সহযোগী। তবে ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালে ইরানের তৎকালীন সরকার পাকিস্তানের পাশে ছিল, সে ইতিহাস অস্বীকার করা যায় না।”
তিনি আরও লেখেন, “ভারত-ইজরায়েলের সম্পর্ক যতই গভীর হোক, আমাদের উচিত উত্তেজনা প্রশমিত করে শান্তির পথে এগোনো। লক্ষ লক্ষ ভারতীয় পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে কাজ করেন। তাই এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা ভারতের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”
গাজায় ইজরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে সোনিয়া গান্ধি লিখেছেন, “গাজায় ইতিমধ্যেই ৫৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। গাজা আজ দুর্ভিক্ষের মুখে। ইজরায়েলের এই নির্মম আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না।”
শেষে তিনি বলেন, “এখনও দেরি হয়ে যায়নি। ভারতের উচিত সাহসিকতার সঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং শান্তির বার্তা দেওয়া। প্রয়োজনে কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভূমিকা নেওয়া জরুরি।”
