ধর্ম
গোপন ভিডিও, হোয়াটসঅ্যাপে অশ্লীলতা! ১৭ ছাত্রীর অভিযোগের পরে পুলিশের জালে স্বঘোষিত দিল্লির ‘বাবা’ চৈতন্যানন্দ
ডিজিটাল ডেস্কঃ দিল্লির স্বঘোষিত ধর্মগুরু স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল। রবিবার ভোররাতে, সাড়ে ৩টার সময় আগ্রার (Agra) একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। দিল্লির বসন্ত কুঞ্জ (Vasant Kunj) এলাকার শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট (Sri Sharda Institute of Indian Management)-এর অন্তর্গত একটি আশ্রমের প্রধান ছিলেন এই স্বঘোষিত ‘বাবা’।
প্রসঙ্গত, চৈতন্যানন্দ ওরফে পার্থসারথীর (Parthasarathi) বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ১৭ জন ছাত্রী যৌন হেনস্তা (Sexual Harassment) এবং অশালীন মেসেজ (Obscene Messages) পাঠানোর অভিযোগ এনেছেন। একের পর এক অভিযোগ আসতেই সে আত্মগোপন করে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর ব্যবহৃত ভলভো (Volvo) গাড়িটি বাজেয়াপ্ত (Seized) করা হয়েছে, যাতে নকল নম্বর প্লেট (Fake Number Plate) বসানো ছিল।
চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয় ২০০৯ সালে—সেবার ছিল প্রতারণা (Fraud) ও তহবিল তছরুপের (Misappropriation of Funds) অভিযোগ। ২০১৬ সালেও এক মহিলার অভিযোগে উঠে আসে শ্লীলতাহানির (Molestation) প্রসঙ্গ। তবে এবারের অভিযোগ আরও ভয়াবহ।
ছাত্রীদের বয়ান অনুযায়ী, চৈতন্যানন্দ:
-
ছাত্রীদের প্রশ্ন করত, “তোমার কতজন প্রেমিক আছে?”
-
“সঙ্গমের সময় কন্ডোম ব্যবহার করো?”
-
মেয়েদের ‘বেবি’ বলে সম্বোধন করত
-
স্নানের সময় জানতে চাইত, এমনকী মহিলাদের শৌচালয়ে গোপন ক্যামেরা (Hidden Camera in Washroom) বসানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ
-
চুল, পোশাক ও দেহের গঠন নিয়ে কু-ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য (Sexual Remarks) করত
-
হোলির দিন প্রতিটি ছাত্রীর গালে, মুখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে নিজেই রঙ লাগাত
-
নির্দেশ দিত, “মুখে আমিই প্রথম রঙ দেব, অন্য কেউ নয়”
-
রাতে ছাত্রীদের কোয়ার্টারে ডেকে (Call to Private Quarters at Night) অশালীনভাবে স্পর্শ করত (Inappropriate Touch)
-
হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) অশালীন মেসেজ পাঠাত
এই অভিযোগগুলি জানাজানি হতেই শ্রী শৃঙ্গেরি মঠ (Sringeri Math) এক বিবৃতিতে জানায়,
“স্বামী চৈতন্যানন্দ সরস্বতী আইনবিরোধী ও অনুচিত কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন। ফলে আমরা তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করছি।”
এরপর চৈতন্যানন্দ আগাম জামিনের (Anticipatory Bail) জন্য আদালতে আবেদন জানালেও তা খারিজ হয়ে যায়। তারপর থেকেই সে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।
অবশেষে, রবিবার ভোর সাড়ে ৩টেয়, আগ্রার হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন পুলিশের হেফাজতে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।


