হামলা
‘ধর্মের নামে প্ররোচনা, বাংলায় বহিরাগতদের চক্রান্ত’— অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) সফরে গিয়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হিংসাত্মক ঘটনার পেছনে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জেলার ডোমকল এবং বহরমপুরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “ধর্মকে হাতিয়ার করে কিছু বাহিরাগত ভুল বার্তা ছড়িয়েছে। তার ফলে মানুষ প্ররোচিত হয়ে এক গোষ্ঠীর সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”
মমতার অভিযোগ, এই হিংসা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর পেছনে গভীর চক্রান্ত রয়েছে। তাঁর কথায়, “বাংলার মানুষ দাঙ্গা চায় না। যারা দাঙ্গা লাগায়, তারা বাংলার শত্রু।” মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং যাঁরা নেপথ্যে রয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রের দ্বিচারিতা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী
রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (C.V. Ananda Bose) থেকে শুরু করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা যখন মুর্শিদাবাদে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন, তখন সেখানে যাননি মুখ্যমন্ত্রী। কেন যাননি, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছিলাম, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরেই যাব। আমি উত্তেজনা বাড়াতে চাইনি।”
এর পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “মণিপুর, বিহার, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা— কোথায় না হিংসা হচ্ছে! সেখানেই কি কেন্দ্রের প্রতিনিধি ছুটে যান? তাহলে বাংলায় এত তৎপরতা কেন?”
আরও পড়ুনঃ জগন্নাথ মন্দির ইস্যুতে বিজেপিকে কটাক্ষ মমতার, বললেন ‘আমি নিমকাঠ চুরি করিনি’
বিজেপির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, “বিজেপি (BJP) রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এ সব করে। কারও মৃত্যুকে হাতিয়ার করে হিংসা ছড়ানো হচ্ছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, বিজেপির তরফে নিহত পিতা-পুত্রের পরিবারকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সরকারের ক্ষতিপূরণ গ্রহণ না করার উদ্দেশ্যে। তাঁর প্রশ্ন, “এটা কি অপহরণ নয়? আমরা এসে ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিলাম। তার আগেই তুলে নিয়ে যাওয়া হল।”
‘হিংসার দায় সরকার নেবে না, দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত’
কোনও কোনও সংগঠন বা নেতা ধর্মের আড়ালে হিংসা ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন মমতা। বলেন, “কেউ কেউ ধর্মের নামে নিজেদের বড় নেতা মনে করেন। কিন্তু আইন আইনের পথে চলবে। হিংসায় যুক্ত কোনও সংস্থার পক্ষ নিচ্ছে না সরকার।”
পরিশেষে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “আমি কারও বিরুদ্ধে নই। কিন্তু ষড়যন্ত্র ও হিংসার বিরুদ্ধে আমার অবস্থান স্পষ্ট। যারা বাংলায় দাঙ্গা লাগাতে চাইছে, তাদের আমরা বরদাস্ত করব না।”
