আত্মহত্যা
থানার সামনে চিপসের মালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ, পাঁশকুড়ায় গেরুয়া দলের তাণ্ডব
ডিজিটাল ডেস্কঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) পাঁশকুড়ায় (Panshkura) সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের আত্মহত্যা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কৃষ্ণেন্দু দাস (Krishnendu Das) নামে ওই ছাত্র চিপসের প্যাকেট চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে বিষপান করে আত্মঘাতী হয় বলে অভিযোগ। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পাশাপাশি ভাইরাল হওয়া ‘সুইসাইড নোট’ (suicide note) নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সুইসাইড নোটের কিছু অংশ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন গ্রাফোলজিস্টরা (graphologists)। বিশেষজ্ঞদের দাবি, পুরো নোটটি একটি হাতের লেখা নয়। নোটের একাধিক অংশে ভিন্ন ভিন্ন লেখার ধরন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে একটি পাতায় থাকা দুটি লাইনের লেখা, যা কৃষ্ণেন্দুর হাতের লেখার সঙ্গে মেলে না বলেই মত তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—আসলে কে লিখেছে এই নোট? ছাত্র নিজে, না কি কাউকে দিয়ে তা লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে?
এই সন্দেহের সূত্র ধরেই এখন তদন্তকারীদের একাংশ মনে করছেন, কৃষ্ণেন্দুর মৃত্যু আদৌ আত্মহত্যা নাকি কারও পরিকল্পনার ফল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে প্রকৃত কারণ চাপা পড়ে যায়। মৃত ছাত্রের বাবা-মা-সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের দাবি, কৃষ্ণেন্দুকে মানসিকভাবে চরমভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে এলাকার একাধিক ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তির দিকে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে ফের করোনা আতঙ্ক, এক দিনে ৪ নতুন আক্রান্ত, মোট সংক্রমিত ১১
এই ঘটনার জেরে রবিবার সন্ধ্যায় পাঁশকুড়া থানার সামনে গেরুয়া শিবিরের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। বিজেপি (BJP) কর্মীরা গলায় চিপসের প্যাকেটের মালা ঝুলিয়ে রাজ্য সরকার এবং পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন। শোনা যায় তীব্র স্লোগান—“সিভিক তোমার চিপস নাও, আমাদের ছাত্রকে ফিরিয়ে দাও!” তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ ও প্রশাসনের গাফিলতির ফলেই অকালে প্রাণ গেল নিরীহ ছাত্রের। বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পাঁশকুড়া থানার সামনে মোতায়েন করা হয় বাড়তি পুলিশবাহিনী। বিশৃঙ্খলা এড়াতে গোটা থানা চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে প্রশাসন। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তেজনার মাঝেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, “প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ তদন্ত না চালায় এবং দোষীদের গ্রেফতার না করে, তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাব।” রাজনৈতিকভাবে এই মৃত্যু ইস্যু যে ভবিষ্যতে বড় মঞ্চে পৌঁছাবে, সেই ইঙ্গিত মিলছে বিজেপির বক্তব্যে। ঘটনার পর একাধিক দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত জেলা পুলিশ প্রশাসনের (District Police Administration) পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মৃত ছাত্রের পরিবার ও বিরোধী রাজনৈতিক মহল।
