পদপিষ্ট ঘটনায় মৃতদের নাম জানাল পুলিশ, তালিকায় নাবালক-নাবালিকা
Connect with us

খেলার খবর

পদপিষ্ট ঘটনায় মৃতদের নাম জানাল পুলিশ, তালিকায় নাবালক-নাবালিকা

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক: বেঙ্গালুরুতে ক্রিকেট উন্মাদনার আনন্দ মুহূর্তে বদলে গেল মৃত্যু-মিছিলে। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের সামনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১১ জনের কারোরই বয়স ৪০ বছরের বেশি নয়। আর সেই প্রাণহানির নেপথ্যে স্পষ্ট প্রশাসনিক অব্যবস্থা। মুখে ‘লাঠি চালানো চলবে না’ বললেও, ময়দানে পুলিশের লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ হয় জনতা, আর সেই আতঙ্কেই ঘটে বিপর্যয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নাবালিকা, তরুণ-তরুণীরা—এককথায়, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা এক ঝাঁক যুব প্রজন্ম।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৯ বছরের নিচে। একজন মাত্র ১৩ বছরের নাবালিকা। ৬ জনের বয়স ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে। দুইজনের বয়স ৩০-৩৫ বছরের মধ্যে। যাঁদের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—

পদপিষ্ট হয়ে নিহতদের নাম ও বয়স:

  1. ডোরেশা (Doresha) – ৩২ বছর

  2. ভূমিকা (Bhoomika) – ২০ বছর

  3. সাহানা (Sahana) – ২৫ বছর

  4. অক্ষতা (Akshata) – ২৭ বছর

  5. মনোজ (Manoj) – ৩৩ বছর

  6. শ্রাবণ (Shravan) – ২০ বছর

  7. দেবী (Devi) – ২৯ বছর

  8. শিবলিঙ্গ (Shivlinga) – ১৭ বছর

  9. চিন্ময়ী (Chinmayee) – ১৯ বছর

  10. প্রজ্জ্বল (Prajwal) – ২০ বছর

  11. অজ্ঞাতনামা নাবালিকা – ১৩ বছর

এমন এক শোকাবহ ঘটনার পরও রাজ্য সরকার দায় এড়াতে ব্যস্ত। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah) দাবি করেন, “এই বিপুল ভিড়ের অনুমান ছিল না আমাদের। স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩৩ হাজার। কিন্তু সেখানে ২-৩ লক্ষ মানুষ ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে দরজা ভেঙে যায়।” প্রশাসনের মতে, বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগই কাল হয়েছে।

Advertisement
ads

তবে এ দাবি মানতে নারাজ প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশের প্রস্তুতি ছিল শোচনীয়। নেই ভিড় নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম পরিকল্পনা। ছিল না পর্যাপ্ত পুলিশ বা অ্যাম্বুল্যান্স। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, আহতদের কোলে করে নিয়ে ছুটছেন পুলিশকর্মীরা। কোথাও ভিড়ের মাঝেই সিপিআর (CPR) দেওয়া হচ্ছে। এমন দৃশ্যই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, বিপুল উৎসব আয়োজনে কতটা গাফিলতি ছিল প্রশাসনের।

এত বড় বিপর্যয়ের পরও নির্দিষ্ট কোনও দায়িত্বপ্রাপ্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উলটে দোষ চাপছে ‘অপ্রত্যাশিত ভিড়’-এর উপর। অথচ প্রশ্ন উঠছে—এমন বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কা কি সত্যিই করা যেত না? যাঁদের প্রাণ গেল, তাঁরা সেই ‘কমবয়সি ছেলেমেয়ে’-ই, যাঁদের কথা বলে পুলিশকে লাঠিচার্জে নিরুৎসাহিত করেছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী।

Continue Reading
Advertisement