ভাইরাল খবর
অপারেশন সিঁদুরের পর মোদীর জরুরি বৈঠক, সেনার সাফল্যে প্রশংসা
ডিজিটাল ডেস্কঃ পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিতে ভারতীয় সেনার নিশানা নির্ভুল। মধ্যরাতে চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়েছে লস্কর-ই-তইবা (Lashkar-e-Taiba) ও জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammad) একাধিক শিবির। পহেলগামে (Pahalgam) নিরীহ পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার ১৫ দিনের মাথায় মঙ্গলবার রাতে এই জবাব দেয় ভারত। সূত্রের খবর, এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৮০ জন জঙ্গি, আহত বহু। নিহতদের মধ্যে রয়েছে লস্কর প্রধান হাফিজ সৈয়দ (Hafiz Saeed) ও জইশ প্রধান মাসুদ আজাহারের (Masood Azhar) পরিবারের সদস্যরাও।
এই সাফল্যের পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) বুধবার সকালে জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকে বলেন, “এটা দেশের জন্য গর্বের মুহূর্ত। সেনা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অপারেশন সম্পূর্ণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।” তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “এই সাফল্য সেনার কৌশল, প্রস্তুতি এবং দেশপ্রেমের প্রতিফলন।”
আরও পড়ুনঃ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর সতর্ক ভারত, সীমান্ত রাজ্য নিয়ে বৈঠকে অমিত শাহ
তৎপর কেন্দ্র: বৈঠকে ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ
সেনার অভিযানের পরপরই দিল্লিতে শুরু হয় রাজনৈতিক তৎপরতা। প্রধানমন্ত্রী যেমন মন্ত্রিসভা বৈঠকে সেনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, তেমনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) সীমান্তবর্তী ১০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে অংশ নেয় পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal), সিকিম (Sikkim), রাজস্থান (Rajasthan), গুজরাট (Gujarat), পাঞ্জাব (Punjab), ঝাড়খণ্ড (Jharkhand), উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh), বিহার (Bihar), লাদাখ (Ladakh) ও উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand)।
এছাড়াও বৃহস্পতিবার সর্বদল বৈঠকের ডাক দিয়েছে কেন্দ্র। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে বিরোধী দলগুলিকেও ‘অপারেশন সিঁদুর’ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য, স্পষ্ট বার্তা
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ছড়িয়ে থাকা ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি এই অভিযানের আওতায় এসেছে। হামলা চালানো হয় অত্যন্ত মাপজোখ করে, যাতে কোনও সামরিক স্থাপনায় নয়, কেবলমাত্র জঙ্গিদের ঘাঁটিতেই আঘাত হানা হয়। এর মাধ্যমে ভারত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি ‘দায়িত্বশীল শক্তি’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বলেই মত কূটনৈতিকদের।
