‘সংঘর্ষবিরতি’ চুক্তি বাতিলের দাবি মেইতেইদের, ফের জ্বলতে বসেছে মণিপুর
Connect with us

ভাইরাল খবর

‘সংঘর্ষবিরতি’ চুক্তি বাতিলের দাবি মেইতেইদের, ফের জ্বলতে বসেছে মণিপুর

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ মণিপুর (Manipur) ফের উত্তপ্ত। মেইতেই (Meitei) গোষ্ঠীর এক শীর্ষ নেতা এবং পাঁচ স্বেচ্ছাসেবকের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ফের ছড়াতে শুরু করেছে উত্তেজনা। হিংসার আশঙ্কায় রাজ্যের পাঁচ জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। একইসঙ্গে, কুকি (Kuki) জনজাতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সংঘর্ষবিরতি চুক্তি (Suspension of Operation বা SoO) বাতিলের দাবিতে সরব হয়েছে মেইতেই সংগঠনগুলি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আরামবাই টেঙ্গল (Arambai Tenggol) নামে একটি মেইতেই সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা ও পাঁচ স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ— রাজ্যে সাম্প্রদায়িক হিংসা ও অশান্তি উস্কে দেওয়ার কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তাঁরা। এই গ্রেপ্তারির পর থেকেই রাজ্যে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে।

আরও পড়ুনঃ ফর্মে ফিরতেই বড় ধাক্কা, করোনা আক্রান্ত ব্রাজিলীয় তারকা নেইমার

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, হিংসার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই শনিবার রাত পৌনে বারোটা থেকে ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, থৌবল (Thoubal), বিষ্ণুপুর (Bishnupur) এবং কাকচিং (Kakching) জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচদিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে বলেই নির্দেশিকা জারি হয়েছে।

Advertisement
ads

পুলিশের বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছিল, যার ফলে রাজ্যে আবার হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

এদিকে, মেইতেই গোষ্ঠীগুলির তরফে কেন্দ্রের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, কুকি বিদ্রোহীদের সঙ্গে কেন্দ্রের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি বাতিল করা হোক। তাঁদের অভিযোগ, কুকি গোষ্ঠীগুলি ওই চুক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে লাগাতার হামলা ও নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রের সঙ্গে কুকিদের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু বর্তমানে মেইতেইদের একাংশ মনে করছে, এই চুক্তির সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র কুকি গোষ্ঠীগুলি ঘরোয়া নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য করেনি।

তবে যা পরিস্থিতি, তাতে নতুন করে মণিপুরে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হিংসা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক সতর্কতা সত্ত্বেও যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে ফের একবার রক্তাক্ত হতে পারে মণিপুরের মাটি।

Advertisement
ads
Continue Reading
Advertisement