ভাইরাল খবর
কাকদ্বীপে ফের বাংলাদেশি ভোটার বিতর্ক, ঘিরে উত্তাপ রাজনীতিতে
ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের একবার কাকদ্বীপ (Kakdwip) ভোটার তালিকায় বাংলাদেশি নাগরিকের নাম উঠে আসার ঘটনায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, যাঁকে নিয়ে জোর বিতর্ক, সেই নিউটন দাস (Newton Das) ঢাকার রাজপথে ‘কোটা বিরোধী’ আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিচ্ছেন। অথচ ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ও ছবিসহ পরিষ্কারভাবে পরিচিতি মিলেছে, যা নিয়ে বিরোধীদের তীব্র অভিযোগ— শাসক দলের প্রশ্রয়ে বাংলাদেশিদের ভোটার করে তোলা হচ্ছে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাপে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নিউটন যে বাংলাদেশি, তা তাদের জানা ছিল না। নিউটনের সঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবাশিস দাসের (Debashis Das) ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নিউটনের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কেক কাটার অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন দেবাশিস। এমনকি কাকদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ প্রামাণিকও (Pradip Pramanik) নিউটনকে “ভালো ছেলে” বলে প্রশংসা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘সংঘর্ষবিরতি’ চুক্তি বাতিলের দাবি মেইতেইদের, ফের জ্বলতে বসেছে মণিপুর
দেবাশিস দাস সাফাই দিয়ে বলেছেন, “আমরা ছোটবেলার বন্ধু। জন্মদিনে গিয়েছিলাম, কে নাগরিক আর কে নয়, সেটা তো আলাদা করে খোঁজ নেওয়া সম্ভব নয়।” যদিও নিউটনের দাদা তপন দাস (Tapan Das) একেবারে বিপরীত কথা বলছেন। নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্বীকার করে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “২০২০ সালে করোনার পরে আমার ভাই পড়াশোনার জন্য আমার কাছে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিল। এখন সে কোথায় থাকে, আমি জানি না।”
অন্যদিকে নিউটনের দাবি, “আমি ২০১৪ সাল থেকেই ভারতের বৈধ ভোটার। ২০১৭ সালে ভোটার কার্ড হারিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরার (Monturam Pakhira) সাহায্যে ২০১৮ সালে নতুন কার্ড তৈরি করি। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে গিয়ে সম্পত্তি সংক্রান্ত কারণে থাকাকালীন কোটা বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলাম। সেই ভিডিওই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে।”
তবে কাকদ্বীপের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা দাবি করেছেন, “নিউটন দাস নামে কাউকে আমি চিনি না। ভোটার কার্ড করিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
বিজেপির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay) বলেন, “কাকদ্বীপে বহু বাংলাদেশির নাম বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। তারাই তৃণমূলের হয়ে ভোট করে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সিএএ (CAA) অনুযায়ী যাঁরা যোগ্য, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। বাকিদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে, যেমনটা অসমে হয়েছে।”
সামনেই পুরসভা ও বিধানসভা উপনির্বাচনের মুখে এই ঘটনা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের উত্তাপ বাড়ছে দক্ষিণবঙ্গে।
