ডিজিটাল ডেস্কঃ সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পেলেন DYFI (Democratic Youth Federation of India)-এর রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। রবিবার মাদুরাইয়ে দলের ২৪তম পার্টি কংগ্রেসের শেষ দিনে এই ঘোষণা হতেই জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলার বাম অন্দরে। প্রশ্ন একটাই—এরপর যুব সংগঠনের হাল ধরবেন কে?
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়ে যুব সংগঠনের দায়িত্বে থাকা যায় না। ফলে অচিরেই DYFI –এর রাজ্য সম্পাদক পদ ছাড়তে হবে মীনাক্ষীকে। এই পরিস্থিতিতে নতুন সম্পাদক নির্বাচন নিয়ে বেশ চিন্তায় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। কারণ, এই মুহূর্তে যুব সংগঠনের মধ্যে মীনাক্ষীর মতো দক্ষ ও জনপ্রিয় মুখ প্রায় অনুপস্থিত।
আরও পড়ুনঃসিপিএমের নতুন নেতৃত্বে বঙ্গের প্রভাব, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ পাঁচজন কেন্দ্রীয় কমিটিতে
এদিকে, দলের অন্দরে মীনাক্ষীর তরুণ বয়সে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চাপা অসন্তোষও রয়েছে। অনেকের মতে, তাঁর জায়গায় আরও অভিজ্ঞ নেতাদের তুলে আনা যেত। পাশাপাশি, নির্বাচনী ময়দানে এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সাফল্য না থাকা সত্ত্বেও এতটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মীনাক্ষীর কাঁধে চাপানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএমের কট্টরপন্থীরা। তবে একাংশ আবার বলছে, পার্টির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মীনাক্ষীই একমাত্র ‘ব্র্যান্ড’ মুখ, যিনি কর্মীদের মধ্যে প্রভাব রাখতে সক্ষম। তাঁর জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে পার্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। যুব সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়েও ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। SFI (Students’ Federation of India)-এর প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। মীনাক্ষীর সমতুল্য জনপ্রিয় না হলেও তিনি পরিচিত মুখ, সংগঠনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি-ভিত্তিক পার্টি নেত্রী দীপ্সিতা ধরের নামও ভাবনায় থাকলেও সাংগঠনিক বাধা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, জুলাই মাসেই মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্মেলন। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে নেতৃবৃন্দ বেকায়দায় পড়বেন বলেই মত দলের একাংশের। শেষমেশ মীনাক্ষীর বর্তমান সহকর্মী, যুব সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি সাহাকেই সম্পাদক করা হতে পারে, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, আর জি কর কলেজ ইস্যুতে বিতর্কে জড়ানো কলতান দাশগুপ্তকে সম্পাদক করার বিপক্ষে কড়া অবস্থানে রয়েছেন দলের একাংশ। সব মিলিয়ে, মীনাক্ষীর উত্থানে যেমন সিপিএমে তরুণ নেতৃত্বের জায়গা পাকা হল, তেমনই যুব সংগঠনের পরবর্তী রূপ কেমন হবে, তা নিয়ে এখনই উত্তাল বঙ্গ বাম রাজনীতি।