দেশ
দলের শৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে! সাংসদদের থামাতে আসরে নামলেন তৃণমূল নেত্রী
নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল vs তৃণমূল। দিল্লিতে সংসদে প্রকাশ্যে তৃণমূল সাংসদদের বাকবিতন্ডা। এমত অবস্থায় চরম অস্বস্তিতে খোদ তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আসরে নামলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। দলের সাংসদদের ঝগড়ায় বিরক্ত মমতা।
সাংসদদের নির্দেশ দিলেন, এখন কোনো সাংসদ কেউ সাংবাদিক সম্মেলন করবেন না। তৃণমূল সূত্রে খবর, দলের সাংসসদদের সংবাদমাধ্যমকে আপাতত এখন কোনও সাক্ষাৎকার দিতে বারণ করেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।
ঘাসফুল সূত্রে খবর, দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কীর্তি আজাদ, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্রর এই বাদানুবাদে বেশ বিরক্ত তৃণমূল সুপ্রিমো। পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে এবার বার্তা দিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সাংসদদের শান্ত হতে অনুরোধ করেন তিনি। এই মুহূর্তে দলের কোনও সাংসদই যাতে এই বিষয়ে আর মুখ না খোলেন, তারও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার বিজেপির আইটি সেলের প্রধান তথা বিজেপি নেতা অমিত মালব্যতৃণমূল সাংসদদের কিছু কথোপকথন প্রকাশ্যে আনেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের দুই সাংসদের উদ্দেশে কিছু বলছেন কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত, গত ৪ই এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে স্মারকলিপি জমা দিতে গিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদেরা। সেখানেই কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় ও কীর্তি আজাদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিতর্ক তৈরী হয়। এমনকি ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে সংসদে বলতে দেওয়া নিয়েও মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের বাকযুদ্ধ হয়।
আরও পড়ুন – সংসদীয় গোলমালের জের! আপাতত বাতিল তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠক
জানা গিয়েছে, সংসদে মিষ্টির দোকান খোলার পরিকল্পনা করছেন কীর্তি আজাদ। সেই কারণে কয়েকজন মহিলা সাংসদের স্বাক্ষর নিয়ে আবেদন করেন তিনি। এই বিষয়টির বিরোধিতা করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনি শুরু শুরু বিতর্ক।
ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই সাংবাদিক সম্মেলন করেন কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। সেখানে সৌগত রায় ও মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন কল্যাণ। প্রয়োজনে রাজনীতি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। সৌগত রায়কে নারদের টাকা চোর বলে মন্তব্য করতে শোনা যায়।
এদিকে কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করেন সৌগত রায়। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার দরকার নেই। তিনি কল্যাণকে চিফ হুইপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি করেন। এই পরিস্থিতিতে অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব। ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন – মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেও, চাকরিতে যাবেন না ‘যোগ্য’ চাকরিহারারা
