ভাইরাল খবর
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান! উপেক্ষিত সেনাপতি থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী
ডিজিটাল ডেস্কঃ কার্যত পূরণ হল এক দীর্ঘ রাজনৈতিক বৃত্ত (political circle)। সরকার (government) থেকে বিরোধী (opposition) আসন, আবারও ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরে আসা—তবে এবার আর সাধারণ অবস্থানে নয়, বরং সর্বেসর্বা হিসেবে। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) নবম মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-এর উত্থান এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
ছোটবেলা থেকেই কাঁথির (Contai) রামকৃষ্ণ মিশনে (Ramakrishna Mission) নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর। সেই শুভেন্দু একসময় সন্ন্যাসী হওয়ার কথা ভাবতেন। অথচ ভাগ্যের লিখন তাঁকে নিয়ে এল রাজনীতির আঙিনায়। ছাত্র রাজনীতিতে (student politics) হাতেখড়ি হয় কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজে। শুরুটা কংগ্রেসের (Congress) ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদ (Chhatra Parishad) থেকে।
১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভায় (Contai Municipality) কাউন্সিলর হিসেবে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর ২০০১ ও ২০০৪ সালের নির্বাচনে পরাজয় এলেও ২০০৬ সালে দক্ষিণ কাঁথি থেকে বিধায়ক (MLA) হয়ে উঠে আসেন আলোচনায়। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন (Nandigram Movement) তাঁর রাজনৈতিক জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।
২০০৮ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। একই বছরে যুব তৃণমূলের (Youth TMC) দায়িত্ব পান শুভেন্দু। ২০০৯ সালে তমলুক (Tamluk) থেকে লোকসভা (Lok Sabha) সাংসদ হন তিনি। পরে আবার ২০১৪ সালে জয়।
তবে ধীরে ধীরে দলের অভ্যন্তরে (internal politics) পরিবর্তন শুরু হয়। ২০১৬ সালে মন্ত্রিসভায় (cabinet) স্থান পান তিনি। কিন্তু ২০১৯-এর পর থেকে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে থাকে। ২০২০ সালে মন্ত্রিত্ব ও বিধায়ক পদ ত্যাগ করে ১৯ ডিসেম্বর অমিত শাহের (Amit Shah) হাত ধরে যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে (Bharatiya Janata Party)।
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) পরাজিত করে বিরোধী দলনেতা (Leader of Opposition) হন তিনি। ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুরে (Bhabanipur) জয়ী হয়ে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেন বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি একসময় নিজের নেত্রী মানতেন, আজ সেই মমতাকে হারিয়ে তিনি ইতিহাস গড়লেন। এককালের বিশ্বস্ত সেনাপতি ১৫ বছরের সাম্রাজ্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন। শনিবার ব্রিগেডের সেই একই মাঠে তিনি শপথ নেন। তবে এবার আর নীরব দর্শক হিসেবে নয়, একেবারে মধ্যমণি হয়ে। বাংলার রাজনীতিতে এর চেয়ে বড় কাব্যিক ন্যায় আর কী হতে পারে।
