রাজনীতি
হকিস্টিক, গার্ডরুম, মাথায় আঘাত—কসবা ধর্ষণকাণ্ডে একের পর এক ভয়াবহ তথ্য
ডিজিটাল ডেস্কঃ কসবায় আইন কলেজে (Kasba Law College) ছাত্রী ধর্ষণকাণ্ডে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তে উঠে এসেছে, নির্যাতিতা বাধা দেওয়ায় অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র (Manojit Mishra) তাঁকে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছিল। পুলিশের দাবি, একাধিকবার তাঁর মাথা দেওয়ালে ও বিছানায় ঠেসে ধাক্কা মারে মনোজিৎ।
সূত্রের খবর, প্রথমে কলেজের ইউনিয়ন রুমের শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় মনোজিৎ। বাধা পেয়ে নির্যাতিতার মাথা দেওয়ালে ঠুকতে চায় সে। পরে জোর করে গার্ড রুমে নিয়ে গিয়ে ফের ধর্ষণ করে। তখনও বাধা পেয়ে, বিছানার গদি ও কার্টনের উপর তাঁর মাথা জোরে ঠুকে দেয় বলে অভিযোগ। এমনকী, নির্যাতিতাকে হকিস্টিক দিয়েও মারার চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশ জানিয়েছে, এই কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে নির্যাতন ও শারীরিক আঘাতের ধারাও যোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃআরজি করে অরাজকতার প্রতিবাদ করেই একঘরে! এবার ২ বছরের জন্য চিকিৎসার লাইসেন্স খারিজ
গার্ড রুমের নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায় (Pinaki Bandopadhyay) তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মনোজিৎ ও নির্যাতিতা ঘরে ঢুকেছিল, পরে তিনি আর সেখানে যাননি। সারারাত বাইরে কাটান। তবে ঘটনার আগে থেকেই মনোজিৎ গার্ড ও ইউনিয়ন রুমে বন্ধুদের নিয়ে মদ্যপানের পরিকল্পনা করেছিল বলে স্বীকার করেছে নিরাপত্তারক্ষী। সেই কারণে গেটে থাকা রেজিস্ট্রারে যেন কারও নাম না লেখা হয়, তাও বলে দেয় মনোজিৎ। পুলিশ সেই রেজিস্ট্রার খাতা বাজেয়াপ্ত করেছে।
ঘটনার পর মনোজিৎ নিজের পরিচিত এক আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে কীভাবে মামলা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। লালবাজারের গোয়েন্দাদের মতে, নির্যাতিতার সাহস ও বিস্তারিত বয়ানেই তদন্ত এগোচ্ছে সঠিক পথে। গার্ড রুমের অবস্থাও নির্যাতিতার বয়ানের সঙ্গে মিলেছে, যা এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে চলেছে।
