ভাইরাল খবর
টানা বৃষ্টিতে উত্তরের পাহাড়ে বিপর্যয়, মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা প্রধানমন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ টানা বৃষ্টিতে ধসে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ (North Bengal)। একের পর এক পাহাড়ি এলাকায় ধস (landslide), নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপরে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একাধিক অঞ্চলে। এই পরিস্থিতিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭।
শনিবার রাত থেকে অব্যাহত ভারী বর্ষণে (heavy rain) কালিম্পং (Kalimpong), দার্জিলিং (Darjeeling), আলিপুরদুয়ার-সহ (Alipurduar) উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধস নামে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে দার্জিলিঙের দুধিয়া (Dudhiyā) ও বিজনবাড়ি (Bijanbari) সেতু ভেঙে পড়ার ফলে। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে বহু মানুষের।
উত্তরবঙ্গের একাধিক জাতীয় ও রাজ্য সড়ক (national highway, state road) ধ্বংসস্তূপে পরিণত।
-
শিলিগুড়ি-ঋষিখোলা (Rishikhola)
-
পেডং (Pedong)
-
মিরিক (Mirik)
—এই সব এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা মিরিকে, যেখানে ধসের জেরে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
বিপদের সীমানার উপর দিয়ে বইছে তিস্তা (Tista), জলঢাকা (Jaldhaka), তোর্সা-সহ একাধিক পাহাড়ি নদী। কেড়ে নিচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তা, জীবন।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের তরফে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।
তিনি এক সোশ্যাল মিডিয়া (social media) পোস্টে লেখেন:
“দার্জিলিঙে সেতু ভেঙে পড়ার ফলে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। ধস ও টানা বৃষ্টির কারণে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তার উপর আমাদের নজর রয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সমস্ত সম্ভাব্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।”
Deeply pained by the loss of lives due to a bridge mishap in Darjeeling. Condolences to those who have lost their loved ones. May the injured recover soon.
The situation in Darjeeling and surrounding areas is being closely monitored in the wake of heavy rains and landslides. We…
— Narendra Modi (@narendramodi) October 5, 2025
এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আগেই ঘোষণা করেছেন, সোমবার (Monday) তিনি মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ-সহ পৌঁছে যাবেন উত্তরবঙ্গে।
নবান্নে (Nabanna) খোলা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম (control room)। চলছে উদ্ধারকার্য।
রাজ্যের তরফে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ (Shankar Ghosh) জানিয়েছেন,
“অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে হলেও, দ্রুত স্বাভাবিক করতে যা যা করা দরকার, সব হবে। উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে উত্তরবঙ্গে এসে পরিস্থিতি দেখতে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
শেষ পাওয়া খবরে, একটি জাতীয় সড়ক আংশিক খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বৃষ্টি কমলে উদ্ধারকাজ দ্রুততর হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সমগ্র পাহাড়জুড়ে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। তবে প্রশাসন ও কেন্দ্র— দুই তরফেই সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হচ্ছে।
