রাজনীতি
১০ পণবন্দির মুক্তির বিনিময়ে ১,২০০ প্যালেস্টাইনি ছাড়ার প্রস্তাব, গাজায় যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত
ডিজিটাল ডেস্কঃ গাজা উপত্যকায় লাগাতার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আবহে ফের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিল ইজরায়েল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকেই গাজার উপর একের পর এক সামরিক অভিযান চালিয়ে চলেছে তেল আভিভ। উত্তর গাজা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দক্ষিণে খান ইউনিসে জারি ছিল টানা বোমাবর্ষণ। হাসপাতাল, বসতঘর, শরণার্থী শিবির— কোনও কিছুই রেহাই পায়নি ইজরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন থেকে। এখন লক্ষ্য গাজার একেবারে দক্ষিণ সীমানা, রাফা। সেখান থেকেই নতুন করে অভিযান শুরু করার আগে প্যালেস্টাইনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশও ইতিমধ্যে দিয়েছে ইজরায়েল।
এই রণাঙ্গিন প্রেক্ষাপটেই গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে প্রস্তাব রেখেছে ইজরায়েল সরকার। তাদের শর্ত অনুযায়ী, হামাস যদি প্রাথমিকভাবে ১০ জন ইজরায়েলি পণবন্দিকে মুক্তি দেয়, তবে বিনিময়ে ইজরায়েল মুক্তি দেবে বহু সংখ্যক প্যালেস্টাইনি বন্দিকে। সেই সঙ্গে অন্তত ৪৫ দিনের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গাজা সীমান্তে হামলার সময় ভুল লক্ষ্যবস্তু, ইজরায়েলি বোমা পড়ল নিজস্ব জনবসতিতে
হামাস সূত্রে জানা গেছে, তারা এই প্রস্তাব নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছে। হামাসের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে মুক্তি দেওয়া হতে পারে মার্কিন-ইজরায়েলি দ্বৈত নাগরিক ইদান আলেকজান্ডারকে— ‘আমেরিকার প্রতি সম্মান’ দেখিয়ে। এর পর আরও ৯ জন পণবন্দিকে ধাপে ধাপে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবর্তে, ইজরায়েল ১২০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দিতে পারে। পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে বিনা অভিযোগে আটক ১,১০০-রও বেশি প্যালেস্টাইনিকেও মুক্তি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
তবে যুদ্ধবিরতির এই আশার আলো সত্ত্বেও মাটিতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। মার্চের শুরু থেকেই ফের গাজা উপত্যকায় একতরফা হামলা শুরু করেছে ইজরায়েলি বাহিনী। বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে মৃত্যু এবং ধ্বংসের মিছিল দীর্ঘতর হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সেই হামলা বন্ধ হওয়ার কোনও ইঙ্গিত মিলছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব আসলে আন্তর্জাতিক চাপ সামাল দিতে ইজরায়েলের কৌশল হতে পারে। বিশেষত আমেরিকা, কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতায় আগেও যুদ্ধবিরতির চুক্তি কার্যকর হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এখন দেখার, এই নতুন উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সফল হয়।
