ডিজিটাল ডেস্কঃ সোম ও মঙ্গলবার রাতের মাঝামাঝি সময়ে পাঁচকুলার (Panchkula) সেক্টর ২৭ এলাকায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) নম্বর প্লেট লাগানো একটি গাড়ির ভিতরে মিলল ছয় জনের মৃতদেহ। একই পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে রাস্তায় বেরনো বাসিন্দারা প্রথমে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি দেখতে পান। গাড়ির ভিতর থেকে একটি তোয়ালে ঝুলছিল, আর পাশে বসে ছিলেন এক ব্যক্তি, যিনি তখনো জীবিত ছিলেন। তিনি স্থানীয়দের জানান, তাঁরা বাগেশ্বরধাম (Bageshwar Dham) থেকে পুজো সেরে দেরাদুন (Dehradun) ফিরছিলেন। পথে কোনও হোটেল না পেয়ে গাড়িতেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা গাড়ির দরজা খুলে দেখেন, ভিতরে একসঙ্গে পড়ে রয়েছেন বৃদ্ধ-শিশুসহ ছয় জন। প্রত্যেকের মুখে বমি, এবং ভিতর থেকে বেরোচ্ছে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ। সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, তাঁরা সকলে একসঙ্গে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাঁরও মৃত্যু হবে বলে জানান।
আরও পড়ুনঃ জঙ্গি হামলার পর আস্থা ফেরাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক, পর্যটন উদ্ধারে উদ্যোগ ওমর আবদুল্লার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ মিত্তাল (Praveen Mittal, 42), তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান— দুই কিশোরী কন্যা এবং এক পুত্র। বেঁচে থাকা একমাত্র সদস্য, প্রবীণ নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তারা ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিলেন এবং সেই হতাশা থেকেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত।
পরিবারটি সম্প্রতি পাঁচকুলায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যার আগে তাঁরা বাগেশ্বরধামে পাপমোচনের উদ্দেশ্যে পুজো দিয়েছিলেন এবং হনুমান কথার (Hanuman Katha) একটি ধর্মীয় আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন। রাতে হোটেল না পেয়ে রাস্তার ধারে একটি বাড়ির সামনে গাড়ি পার্ক করে সেখানেই বিষ খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ, যদিও তার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি তারা। তদন্ত চলছে এবং আত্মহত্যার পিছনে ঋণের প্রকৃতি ও পরিমাণ জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এই করুণ ঘটনায় পাঁচকুলা সহ সমগ্র হরিয়ানায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অর্থনৈতিক চাপে জর্জরিত সাধারণ মানুষ কীভাবে চরম পদক্ষেপে পৌঁছে যেতে পারেন, এই ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে রইল।