হামলা
ধর্মের আড়ালে ষড়যন্ত্র! পাক সেনাকে খাওয়ানোর হুমকি দিল খলিস্তানপন্থী পান্নু
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের আবহে ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিল খলিস্তানপন্থী সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’। সংগঠনের বিতর্কিত নেতা গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নু এক উসকানিমূলক ভিডিও বার্তায় ভারতীয় সেনায় কর্মরত শিখ জওয়ানদের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভিডিওটিতে পান্নু দাবি করেন, “যদি মোদী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেন, তবে তা হবে তাঁর শেষ যুদ্ধ। শিখরা এই যুদ্ধে ভারতের পক্ষে লড়বে না।” এমনকী তিনি বলেন, “যুদ্ধ শুরু হলে পাঞ্জাব সীমান্তের গ্রামগুলোতে পাক সেনার জন্য ‘লঙ্গর’ চালু করা হবে।”
‘লঙ্গর’ হল শিখ ধর্মের এক পবিত্র সামাজিক রীতি, যেখানে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়। পান্নুর মন্তব্যকে এই রীতির অপমান বলে মনে করছেন শিখ ধর্মাবলম্বীদের একাংশ। অনেকেই বলছেন, এই মন্তব্য শুধু শিখ সংস্কৃতির বিরুদ্ধেই নয়, বরং ভারতের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।
আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরি জঙ্গি নেটওয়ার্কের পুরোনো খেলোয়াড়, ফের সক্রিয় ফারুক তিড়ওয়া
এদিকে একই সময়, অমৃতসরের কাছে ভারোপাল গ্রামে এক যৌথ তল্লাশি অভিযানে বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করেছে বিএসএফ ও পাঞ্জাব পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে দুটি হাতবোমা, তিনটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন ও ৫০টি তাজা কার্তুজ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের জন্য এই অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল। গোয়েন্দা বিভাগ মনে করছে, কিছু চরমপন্থী সংগঠন পাকিস্তানি মদতপুষ্ট হয়ে ভারতের ভেতরে অশান্তি ছড়ানোর ছক কষছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই সুযোগে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সরকারের তরফেও এই ধরনের উসকানিমূলক প্রচার ও জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছে।
