স্বাস্থ্য
“কোনো মানুষের ছোঁয়া ছাড়াই গর্ভধারণ: বিশ্বে প্রথম সফল রোবোটিক সন্তান জন্ম”
ডিজিটাল ডেস্কঃ রেছে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)-সহায়ক ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (IVF) পদ্ধতির মাধ্যমে। মেক্সিকোর হোপ আইভিএফ সেন্টারে সম্পন্ন হওয়া এই প্রযুক্তিগত সাফল্য চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মানব প্রজনন প্রযুক্তির জগতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা Conceivable Life Sciences। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি রোবোটিক সিস্টেম উদ্ভাবন করেছে যা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ ICSI (Intracytoplasmic Sperm Injection) প্রক্রিয়ার ২৩টি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে। এই ধাপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: শুক্রাণু নির্বাচন, ডিম্বাণুর প্রস্তুতি, নিষিক্তকরণ, এবং ভ্রূণ প্রতিস্থাপন।
প্রচলিত আইভিএফ পদ্ধতিতে যেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং ল্যাব টেকনিশিয়ানদের সুক্ষ্ম হাতের কাজ প্রয়োজন হয়, সেখানে এই এআই প্রযুক্তি প্রায় সব কাজই করেছে রোবটের সাহায্যে, কোনো মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই। এটি কেবল প্রযুক্তির জয় নয়, বরং চিকিৎসাক্ষেত্রে মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করার এক অনন্য দৃষ্টান্তও বটে।
আরও পড়ুনঃব্ল্যাক মিররের ‘নুব্বিন’ এখন আলোচনায়—বাস্তবে আসছে কি এই প্রযুক্তি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্য ভবিষ্যতে IVF চিকিৎসাকে আরও সাশ্রয়ী, দ্রুত এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সহজলভ্য করে তুলতে পারে। এই প্রযুক্তি উন্নত বিশ্বের বাইরেও গর্ভধারণের স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনা উন্মোচন করছে।
এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন স্পেনের বার্সেলোনাভিত্তিক একদল প্রকৌশলী, যারা একটি অতি সূক্ষ্ম রোবোটিক নিডল তৈরি করেন। এই নিডল ব্যবহার করে নিউ ইয়র্কের নিউ হোপ ফার্টিলিটি সেন্টারে এক নারীর ডিম্বাণুতে শুক্রাণু প্রবেশ করানো হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, রোবোটিক সিস্টেমটি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয় সনির প্লে-স্টেশন ৫-এর গেম কন্ট্রোলার!
এই চমকপ্রদ আবিষ্কারটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রজনন বিশেষজ্ঞ ড. সান্তিয়াগো মুনে, যিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা যা ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী মানুষের জন্য সহজলভ্য এবং ব্যয়সাশ্রয়ী হবে। একজন ইঞ্জিনিয়ার যদি শিশু জন্ম দিতে সাহায্য করতে পারে, তবে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা সীমাহীন।”
এই রোবোটিক সিস্টেমের সহায়তায় গর্ভধারণ করে যমজ দুটি মেয়েশিশুর জন্ম হয় — যারা সম্পূর্ণ সুস্থ। এটাই প্রমাণ করে যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে আইভিএফ কেবল সম্ভবই নয়, বরং কার্যকর এবং নিরাপদও।
এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ভবিষ্যতে প্রজনন চিকিৎসা ব্যবস্থার ধরনই বদলে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি আশীর্বাদ হতে পারে, যেখানে দক্ষ চিকিৎসক এবং আধুনিক সুবিধার অভাব রয়েছে।
বিশ্বের চিকিৎসাবিদরা এই প্রযুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলছেন, “এটি কেবল একটি শিশুর জন্ম নয়, এটি ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক দ্বার উন্মোচন।”
