কলম্বিয়ায় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে থারুর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যারা সন্ত্রাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি না-দেখিয়ে, বরং যারা সন্ত্রাস ছড়াতে এসেছিল এবং অপারেশনে মারা গেছে, তাদের জন্য সমবেদনা জানিয়েছে কলম্বিয়া। এতে আমি কিছুটা হতাশ। আমরা বন্ধু রাষ্ট্র কলম্বিয়াকে বলতে চাই, যারা হত্যা করে আর যারা আত্মরক্ষা করে, তাদের কখনও এক করা যায় না। কারও সঙ্গে কোনও ভুল বোঝাবুঝি হলে, আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই উচিত।”
আরও পড়ুনঃ ২৫ দিনের মৃত্যুযুদ্ধ জিতে ঘরে ফিরলেন পবনদীপ রাজন — “আপনাদের আশীর্বাদেই বেঁচে ফিরেছি”
প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তানের মদতে ইসলামিক জঙ্গিরা ধর্ম জিজ্ঞাসা করে টার্গেট করে হত্যা চালিয়েছিল। সেই নৃশংস হামলায় বহু ঘর থেকে ‘সিঁদুর’ মুছে গিয়েছিল। এরপরেই প্রতিশোধ নেয় ভারত। ‘অপারেশন সিঁদুরে’ অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে, মুজাফফরাবাদ, কোটলি, গুলপুর, ভীমবের, চাক আমরু ও শিয়ালকোট— এই নয়টি এলাকায় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় বাহিনী। রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্তত ১০০ জঙ্গি খতম হয় এই অভিযানে।
এই অভিযানের জেরে ভারত-পাক সীমান্তে সেনা সংঘর্ষের সময়, পাকিস্তানের বড় বড় বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়। এই প্রেক্ষিতেই চিনা অস্ত্রের প্রসঙ্গ তোলেন শশী থারুর। তাঁর বক্তব্য, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ৮১ শতাংশ আসে চিন থেকে। তবে এখানে ‘প্রতিরক্ষা’ শব্দটি অনেকটাই সৌজন্যমূলক— আসলে এই অস্ত্রের বড় অংশই আক্রমণাত্মক ব্যবহারের জন্য।”
এরপর চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC) ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI) নিয়ে মুখ খোলেন থারুর। তিনি জানান, “বিআরআই-এর সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি পাকিস্তানেই অবস্থিত। এই করিডোর চিনকে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমের গওয়াদার বন্দর (Gwadar Port)-এর সঙ্গে যুক্ত করে দেয়। এর ফলে পশ্চিম চিনে পণ্য দ্রুত ও কম খরচে পরিবহণ সম্ভব হচ্ছে।”
তবে ভারতের আপত্তি কোনও দেশের উন্নয়ন বা আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের বিরুদ্ধে নয়, জানিয়ে থারুর বলেন, “পাকিস্তানি জনগণের উন্নয়নের অধিকার আমরা মানি। কিন্তু চিনের সঙ্গে যৌথভাবে আমাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালানো হলে, তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক।”