কলকাতা
কলকাতার স্কুলে এবার ইসকনের মিড-ডে মিল! বরাদ্দ বাড়িয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দু সরকারেরর
ডিজিটাল ডেস্কঃ পূর্বতন সরকারের আমলে মিড-ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। খাবারে টিকটিকি বা আরশোলা মেলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার এক যুগান্তকারী ও বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এবার থেকে কলকাতা পুরনিগম এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের খাবার সরবরাহ করবে আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক সংস্থা ইসকন (ISKCON)। সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট (Full Budget) পেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “রামকৃষ্ণ মিশন, গৌড়ীয় মঠ, ভারত সেবাশ্রম ও ইসকনের দেখানো পথেই পশ্চিমবঙ্গ চলবে। পাইলট প্রজেক্ট (Pilot Project) হিসেবে পুরো কলকাতাকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইসকন শুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াবে। যদি কারও আপত্তি থাকে, তবে হরে কৃষ্ণ বলবেন না, কেউ জোর করবে না।” দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ইসকন তাদের ‘অক্ষয় পাত্র’ (Akshaya Patra) প্রকল্পের অধীনে সফলভাবে খাবার সরবরাহ করে থাকে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর শিক্ষামহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। বাংলার মতো একটি প্রধানত আমিষাশী রাজ্যে স্কুল পড়ুয়ারা পুষ্টির জন্য মিড-ডে মিলের পাতে ডিম পাবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, স্কুলের বর্তমান রান্নাকর্মী বা ‘কুক-কাম-হেল্পারদের’ (Cook-cum-Helper) কর্মসংস্থান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকরা।
যদিও একই সঙ্গে রাজ্য বাজেটে স্কুল শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে (Infrastructure Development) একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এতদিন প্রাথমিক স্তরে পড়ুয়া পিছু বরাদ্দ ছিল মাত্র ৬ টাকা ৭৮ পয়সা, যা বাড়িয়ে এবার মাথাপিছু ১০ টাকা করা হয়েছে। তবে উচ্চ প্রাথমিকের বরাদ্দে কোনও বদল করা হয়নি। এছাড়া মিড-ডে মিলের রান্নাকর্মীদের মাসিক সাম্মানিক ১,০০০ টাকা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকার পরিবর্তে ৩,০০০ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্কুলের পরিকাঠামো আধুনিক করতে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাখা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য ওয়াটার পিউরিফায়ার (Water Purifier) বসানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এই বাজেটেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) একলপ্তে ২০ শতাংশ বৃদ্ধির মতো ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে এবং মোট ডিএ-র পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৮ শতাংশ।
