ভাইরাল খবর
‘শুধু ডিমেই পুষ্টি হয় নাকি? মিড-ডে মিলে ইসকন-বিতর্কে বড় বার্তা স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীর
ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজ্য বিধানসভায় (State Assembly) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (Budget) পেশের পর থেকেই নতুন সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) ঘোষণা করেন, কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation – KMC) এলাকার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal) পরিষেবার দায়িত্ব দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক সংস্থা ইসকনকে (ISKCON)।
এই ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষকমহল (teachers) ও শিক্ষাবিদদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন ব্যবস্থায় পড়ুয়াদের (students) পুষ্টির ভারসাম্য (nutrition balance) ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে মিড-ডে মিলে থাকা ডিম (egg) বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন (Deepak Barman) সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, নিরামিষ খাদ্য (vegetarian food) থেকেও পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া সম্ভব। তাঁর মতে, শুধু প্রাণিজ খাদ্যই (animal protein) পুষ্টির একমাত্র উৎস নয়। তাঁর এই মন্তব্যে বিতর্ক আরও বেড়েছে।
বর্তমানে প্রকল্পটি ‘পিএম পোষণ’ (PM POSHAN) নামে নতুন কাঠামোয় চালু করা হয়েছে। সরকার এটিকে পাইলট প্রকল্প (pilot project) হিসেবে দেখছে এবং ভবিষ্যতে রাজ্যজুড়ে সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষকদের একাংশের দাবি, মিড-ডে মিল বহু দরিদ্র পরিবারের (low-income families) শিশুদের জন্য প্রধান পুষ্টির উৎস। বিশেষ করে ডিম সপ্তাহে একদিন হলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া আরও একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে কর্মসংস্থান (employment) নিয়ে। বহু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (self-help groups) মহিলা রাঁধুনিরা এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। নতুন ব্যবস্থায় তাঁদের কাজ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরকার অবশ্য জানিয়েছে, রাঁধুনিদের ভাতা (honorarium) বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বাস্তব সমস্যাগুলি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
সব মিলিয়ে মিড-ডে মিল নিয়ে এই নতুন সিদ্ধান্ত এখন রাজ্য রাজনীতির (state politics) অন্যতম বিতর্কিত ইস্যু। পুষ্টি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান—তিনটি ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
