ভাইরাল খবর
৭১ বছরের মহিলার পোস্টার দিয়ে জিতে এখন এই বিদ্রোহ? ৫০ বিধায়ক নিয়ে তৈরি ‘আসল তৃণমূল’
ডিজিটাল ডেস্কঃ উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের (Expulsion) পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহ এখন চরমে উঠেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যপদ্ধতি নিয়ে অসন্তুষ্ট একদল জনপ্রতিনিধি এবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, প্রায় ৫০ জন বিধায়কের (MLAs) স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চিঠি বিধানসভার অধ্যক্ষ (Speaker) রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে জমা দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের দলনেতা (Floor Leader) দাবি করে বিধানসভায় ‘প্রকৃত তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি চাইতে পারে।
এই মেগা বিদ্রোহের সলতে পাকানো শুরু হয়েছে একাধিক গোপন বৈঠকের (Secret Meetings) মাধ্যমে। সোমবার প্রথমে বাইপাস সংলগ্ন একটি জায়গায় এবং পরবর্তীতে সন্ধ্যায় এমএলএ হস্টেলের (MLA Hostel) একটি ঘরে শিউলি সাহা ও জাভেদ খানদের মতো বিধায়কদের বৈঠক করতে দেখা যায়। সেখানে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বেশ কয়েকজন বিধায়কসহ প্রায় ১৫-১৬ জন উপস্থিত ছিলেন। হস্টেল থেকে বেরিয়ে শিউলি সাহা অবশ্য এটিকে নিছক ‘চা-চক্র’ বলে দাবি করেন, তবে তাঁর মন্তব্য— “বিধায়ক বহিষ্কৃত নয়, দল থেকে বহিষ্কৃত”— নতুন জল্পনা উস্কে দিয়েছে। এদিকে, বহিষ্কারের পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির (Corruption) অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন ঋতব্রত। তিনি উলুবেড়িয়া পুরসভায় বিপুল অনিয়মের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তৃণমূলের এই টালমাটাল পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেন, “তৃণমূল যেভাবে চলছিল, তাতে এটা প্রত্যাশিত ছিল। এভাবেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে দল।” অন্যদিকে, বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা কেউ নির্দল (Independent) হয়ে জিতে আসিনি। একজন ৭১ বছর বয়সী মহিলাকে ছুটিয়ে, তাঁর পোস্টার দিয়ে বিধায়ক হয়েছি। আমাদের কি কোনও বিবেক নেই?” যদিও এই বিদ্রোহের মূল কাণ্ডারি হিসেবে যাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে, সেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে অবশ্য এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেননি। সব মিলিয়ে দলীয় ভাঙনের জল্পনায় উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি (State Politics)।


