রাজনীতি
ভোটের আগে বাংলায় ধর্মের রাজনীতি? মোদিকে তীব্র প্রশ্ন অভিষেকের-‘মঞ্চ বানিয়েছে কে, হিন্দু না মুসলমান?’
ডিজিটাল ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (Assembly Election 2026) আগে বাংলার রাজনীতিতে ফের তীব্র হচ্ছে ধর্মীয় বিভাজনের (Religious Polarisation) তরজা। মালদহে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper) ট্রেনের উদ্বোধনে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) হাওড়া–কামাখ্যা রুটকে ‘মা কালী ও মা কামাখ্যার যোগসূত্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। সেই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক পালটা আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
বহরমপুরে (Behrampur) রোড শো ও জনসভা থেকে মোদীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন অভিষেক। তাঁর প্রশ্ন,
“যে মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গাল দেওয়া হচ্ছে, সেই মঞ্চটা কে বানিয়েছে—হিন্দু না মুসলমান?”
ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিষেক বলেন, রাস্তায় জল কিনে খাওয়ার সময় কেউ দোকানদারের ধর্ম জানতে চায় না। বাড়িতে আগুন লাগলে দমকল কর্মীদের ধর্ম পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয় না। অথচ ভোট এলেই বিজেপি (BJP) হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে হাতিয়ার করছে বলে অভিযোগ তাঁর।
এদিকে গত দু’দিন ধরে অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga Incident)। পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ (Protest) ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতায় (Violence)। জাতীয় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই অশান্তির জন্য মালদহের সভা থেকে সরাসরি তৃণমূলকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
তবে বহরমপুরের সভা থেকে বেলডাঙা ইস্যুতে পালটা বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তোলেন অভিষেক। নাম না করেই সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)-কে ‘নতুন গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে তাঁর অভিযোগ, বিজেপির মদতেই এই অশান্তি তৈরি হয়েছে।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা স্পষ্ট—কোনও উস্কানিতে পা দেওয়া যাবে না, আইন হাতে তুলে নেওয়া চলবে না। শান্তি ও ঐক্য (Unity) বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
