ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা সিভিল সার্ভিস টপার, হতবাক প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ
Connect with us

প্রতারণা

ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা সিভিল সার্ভিস টপার, হতবাক প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ

Dipa Chakraborty

Published

on

ডিজিটাল ডেস্কঃ স্কুলজীবনে ক্লাসের প্রথম হওয়া, পরে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় রাজ্যের সেরা—সমাজ যাকে আদর্শ বলে মানে, যার সাফল্যে গর্বিত হয় গোটা পরিবার থেকে পাড়া–প্রতিবেশী, সেই মানুষটাই যখন দুর্নীতিতে হাত পাকায়, তখন শুধুই ব্যক্তি নয়, প্রশ্ন ওঠে গোটা শিক্ষা, মূল্যবোধ আর সমাজব্যবস্থার (Social Structure) উপর। এমনই এক হতাশাজনক ও আলোড়ন তোলা ঘটনা ঘটেছে ওড়িশায় (Odisha)।

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় (Civil Service Exam) রাজ্যের টপার অশ্বিনী কুমার পান্ডা (Ashwini Kumar Panda) ১৫ হাজার টাকা ঘুষ (Bribe) নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন ভিজিল্যান্স দফতরের (Vigilance Department) ফাঁদে। বর্ষীয়ান কোনো দুর্নীতিবাজ নন, মাত্র ৩২ বছরের এক তরুণ প্রশাসনিক অফিসার, যিনি কিছুদিন আগেই “প্রশাসনের ভবিষ্যৎ” হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।

পান্ডা ওড়িশার সাম্বলপুর (Sambalpur) জেলার বামরা ব্লকে (Bamra Block) তহসিলদার (Tehsildar) পদে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, একজন কৃষক তাঁর কৃষিজমিকে ভিটেজমিতে (Homestead Land) রূপান্তরের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের অনুমোদনের জন্য প্রথমে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন পান্ডা। পরে দরদাম করে ১৫ হাজারে নামিয়ে আনেন।

ঘুষ না দিলে আবেদন নামঞ্জুর করার হুমকি দেওয়ায়, ওই ব্যক্তি সরাসরি ভিজিল্যান্স দফতরে অভিযোগ করেন। পরিকল্পনা মতো ফাঁদ পাতেন আধিকারিকরা। শুক্রবার, ওই ঘুষের টাকা এক ড্রাইভারের (Driver) মাধ্যমে নেওয়ার সময় অফিসেই হাতেনাতে ধরা পড়েন পান্ডা। তার কাছ থেকে পুরো ঘুষের অঙ্ক উদ্ধার হয়।

Advertisement
ads

এখানেই শেষ নয়—গ্রেফতারের পর ভুবনেশ্বর (Bhubaneswar) ও সরকারি আবাসে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৪.৭৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে ভিজিল্যান্স। ধৃত পান্ডার ড্রাইভার প্রবীণ কুমারকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। দু’জনের বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ দুর্নীতি আইন (Prevention of Corruption Act) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।

২০১৯ সালে ওড়িশা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হন অশ্বিনী কুমার পান্ডা। পেশায় একজন যান্ত্রিক প্রকৌশলী (Mechanical Engineer), তিনি ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রশাসনে যোগ দেন ট্রেনিং রিজার্ভ অফিসার (TRO) হিসেবে। প্রথমে ময়ূরভঞ্জের (Mayurbhanj) শামখুন্তায় (Shamakhunta) কর্মরত ছিলেন, পরে বদলি হয়ে আসেন বামরায়।

সোশ্যাল মিডিয়া এবং প্রশাসনিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা। প্রশ্ন উঠছে—একজন সিভিল সার্ভিস টপার যদি এইভাবে দুর্নীতিতে লিপ্ত হন, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

Advertisement
ads

বর্তমানে ভিজিল্যান্সের পক্ষ থেকে পান্ডার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। আরও সম্পত্তি ও আর্থিক অনিয়ম সামনে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Continue Reading
Advertisement