বিশ্বের খবর
আজই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন সুশীলা কার্কি, ইতিহাস গড়ার পথে নেপাল
ডিজিটাল ডেস্কঃ নেপালের রাজনৈতিক সংকট ও গণআন্দোলনের (protest) পর অবশেষে স্থিরতা ফিরতে চলেছে। জেনারেশন জেড (Gen Z)-এর গণঅভ্যুত্থান (uprising) ও রাষ্ট্রীয় চাপের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের (interim government) নেতৃত্ব দিতে চলেছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারক সুশীলা কার্কি। শুক্রবার দুপুর নাগাদ কাঠমান্ডুতে রাষ্ট্রপতি ভবনে তিনি শপথ নিতে পারেন বলে খবর।
দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করার পর থেকেই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য একাধিক নাম উঠে আসে। তবে শেষপর্যন্ত সবদিক বিবেচনায় কার্কিকেই সামনে আনতে চায় প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল ও সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগডেল। রয়টার্স সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই বিষয়ে দফায় দফায় আলোচনার পর তাঁর নামেই সিলমোহর পড়ে।
২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেওয়ার কিছুদিন আগে কার্কিকে অপসারিত করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’। সেই সময়ের বিতর্কের পরেও আজ দেশের তরুণ প্রজন্মের (youth) কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হয়ে উঠেছেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি ভবনে আজ দুপুরে বসছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। উপস্থিত থাকবেন সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগডেল, প্রধান বিচারপতি প্রকাশ মান সিং রাউত এবং সিপিএন (মাওবাদী সেন্টার)-এর (CPN Maoist Centre) শীর্ষ নেতারা। রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল এই বৈঠকের নেতৃত্ব দেবেন।
জানা গিয়েছে, জেন জি-র অভ্যন্তরেও ছিল মতবিরোধ, তবে শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিক্রমে সুশীলা কার্কির নামেই সম্মতি দেয় তরুণরা। আজই তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন এবং তারপরে শপথ নিতে পারেন। যদিও সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।
এদিকে, কার্কি ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের সম্ভাব্য নেতৃত্বে যাঁদের নাম উঠেছে তাঁরা হলেন — কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ, ধারানের মেয়র হারকা সামপাং, প্রাক্তন সাংবাদিক রবি লামিছানে, এবং নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (NEA) অধিকর্তা কুল মান ঘিসিং।
বর্তমানে পর্যন্ত জেন জি আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এক নতুন ইতিহাস রচনার পথে এগোচ্ছে নেপাল। যদি সুশীলা কার্কি আজ শপথ নেন, তবে তিনিই হবেন দেশের প্রথম মহিলা অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী।


