ভাইরাল খবর
ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য এই ১২টি নথি লাগবে — আপনার আছে কি?
ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটার তালিকায় (Voter List) নাম তোলার জন্য এবার থেকে ১২টি নির্দিষ্ট নথি গ্রহণযোগ্য বলে চূড়ান্ত নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। এই ১২টি নথির মধ্যে যুক্ত হয়েছে বিতর্কিত আধার কার্ড (Aadhaar Card)। যদিও আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের (Citizenship) প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে না, কিন্তু পরিচয়পত্র (Identity Proof) হিসেবে তার ব্যবহার এখন থেকে বৈধ।
বিহার এসআইআর মামলায় (Bihar SIR Case) এই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন কমিশনকে (ECI) বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে আধারকে ‘দ্বাদশ নথি’ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এর আগে কমিশনের তালিকায় ১১টি নথিকে বৈধ হিসেবে ধরা হতো।
কমিশনের তালিকাভুক্ত ১২টি বৈধ নথি:
১. কেন্দ্র/রাজ্য সরকার বা পিএসইউ (PSU)-র নিয়মিত কর্মী বা পেনশনপ্রাপ্তদের পরিচয়পত্র/পেনশন অর্ডার
২. ১ জুলাই ১৯৮৭-র আগে ভারতে সরকার/ব্যাংক/ডাকঘর/এলআইসি/পিএসইউ দ্বারা জারি করা পরিচয়পত্র
৩. জন্মের শংসাপত্র (Birth Certificate)
৪. পাসপোর্ট (Passport)
৫. মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত শংসাপত্র
৬. রাজ্য সরকারের দেওয়া স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র
৭. বন অধিকার শংসাপত্র (Forest Rights Certificate)
৮. ওবিসি (OBC)/এসসি (SC)/এসটি (ST) বা অন্যান্য জাতিগত শংসাপত্র
৯. ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (NRC), যেখানে প্রযোজ্য
১০. পরিবার নিবন্ধন (Family Register) — রাজ্য বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রস্তুত
১১. সরকারি জমি বা বাড়ি বরাদ্দপত্র (Allotment Order)
১২. আধার কার্ড (Aadhaar Card) – শুধুমাত্র পরিচয় প্রমাণ হিসেবে, নাগরিকত্ব নয়
কী বলছে সুপ্রিম কোর্ট?
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পাসপোর্ট ও জন্ম শংসাপত্র ছাড়া অন্য কোন নথিই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তাই আধার কার্ডকে বাদ না দিয়ে বরং তা পরিচয় যাচাইয়ের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যেতেই পারে।
রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
বিহারের পরে পশ্চিমবঙ্গ সহ আরও বেশ কিছু রাজ্যে বিশেষ সংশোধনী অভিযান (Special Intensive Revision) শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল যে, রেশন কার্ড (Ration Card) এবং স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Swasthasathi Card) যেন গ্রহণযোগ্য হয়। তবে নির্বাচন কমিশন তা খারিজ করে দেয়।
নবান্ন দাবি করেছে, সিইও (CEO) মনোজ আগরওয়াল নিজেই রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, রাজ্যের সাধারণ মানুষ কী কী নথি সাধারণত ব্যবহার করেন। সেই উত্তরই দেওয়া হয়েছিল।
সিইও দফতরের দাবি, এটা কোনও সংঘাত নয় বরং গোটা দেশে অভিন্ন নিয়ম কার্যকর করারই প্রচেষ্টা।


