দেশের খবর
নেপালে আগুন আন্দোলনে জেল ভাঙা, ১৫ হাজার দাগি পালিয়েছে, ভারতের পথে অনুপ্রবেশের চেষ্টা!
ডিজিটাল ডেস্কঃ চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে কার্যত বিস্ফোরণ নেপালে। সরকারের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠা ‘জেন জি’ (Gen Z) আন্দোলনের ঢেউয়ে বিধ্বস্ত গোটা দেশ। ব্যাঙ্ক লুট (Loot), শিল্পপতি ও রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে হামলার ঘটনা এখন প্রায় নৈমিত্তিক। এর মধ্যেই সামনে এল আরও ভয়াবহ এক খবর—নেপালের বিভিন্ন জেল ভেঙে পালিয়েছে অন্তত ১৫ হাজার দাগি (Convicted) অপরাধী!
এর থেকেও উদ্বেগজনক তথ্য হল, ওই অপরাধীদের অনেকেই নাকি এবার ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) সিদ্ধার্থনগর (Siddharthnagar) জেলার সীমান্ত থেকে ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে ৫ জন, যারা সকলেই নেপালের জেল ভেঙে পালানো কয়েদি বলে জানা গেছে। তাঁরা ভারতের মাটিতে (Indian territory) ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।
নেপালের যেসব কারাগার থেকে কয়েদিরা পালিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—
-
কাঠমান্ডুর (Kathmandu) দিল্লিবাজার কারাগার
-
চিতওয়ান (Chitwan)
-
নখু (Nakhu)
-
ঝুমকা (Jhumka)
-
জলেশ্বর (Jaleshwar)
শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, নাবালক সংশোধনাগারেও ছড়িয়ে পড়েছে এই বিশৃঙ্খলা। সূত্রের খবর, একটি সংশোধনাগার থেকে পালানোর চেষ্টা করলে সেনার গুলিতে মারা যায় ৫ কিশোর বন্দি। আহত হয়েছে আরও ৭ জন। জলেশ্বরের নৌবস্তা (Naubasta) জেলের প্রধান জলন্ধর মুসাল (Jalandhar Musal) জানিয়েছেন, ‘কিশোর কয়েদিরা গেট ভেঙে পালাতে চাইছিল, বাধ্য হয়েই গুলি চালানো হয়েছে।’
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপালে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। বিকেল ৫টা থেকে জারি করা হয়েছে দেশজুড়ে কারফিউ (Curfew)।
প্রসঙ্গত, নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি (K.P. Sharma Oli)-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির (Corruption) একাধিক অভিযোগ বহুদিন ধরেই ছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স সহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করে দেয় নেপাল সরকার। যার ফলেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তরুণ প্রজন্ম।
সোমবার থেকেই রাস্তায় নামেন হাজার হাজার তরুণ, যার ফলে সরকারের পতনের দাবি জোরালো হয়। শেষমেশ মঙ্গলবার ওলি ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। তবে সরকারের পতনের পরেও নেপালে হিংসার আগুন নেভেনি, বরং বেড়েই চলেছে।
এই জটিল পরিস্থিতির জেরে ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতেও জারি করা হয়েছে সতর্কতা। সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।


