রাজনীতি
বিদেশ সফরে যাচ্ছেন না ইউসুফ পাঠান, ক্ষুব্ধ মমতা, কটাক্ষ শুভেন্দুর
ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের অবস্থান জোরালো করতে কেন্দ্র যে বহুদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধি দল বিদেশ সফরে পাঠাতে চলেছে, তাতে নাম ছিল বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan)-এরও। কিন্তু শেষমেশ সেই সফরে যাচ্ছেন না তিনি— এমনটাই খবর তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে। আর এই ঘটনায় যথেষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে প্রতিনিধি দলে রাখতে চাইলেও তিনি তাতে রাজি হননি বলে জানা গিয়েছে। দলের তরফেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তৃণমূল কোনও সাংসদকেই এই সফরে পাঠাবে না। তাদের যুক্তি, বিদেশনীতি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ বিষয়, তাই সেই দায়ভারও কেন্দ্রেরই নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুনঃ আজ উত্তরবঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী, যোগ দেবেন বাণিজ্য সম্মেলনে, রয়েছে একাধিক কর্মসূচি
এই ইস্যুতে রাজনীতির পারদ আরও চড়িয়েছে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র মন্তব্য। পাঠানের বিদেশ সফরে অনীহা প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, ইউসুফ পাঠান উন্নয়নের প্রশ্নে নয়, বরং ‘সাম্প্রদায়িক কার্ড’ খেলে বহরমপুরে জয়ী হয়েছেন। শুভেন্দুর বক্তব্য, “বহরমপুরের ঘরের ছেলে অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)-কে সেখানে মানুষ ভোট দেয়নি, কারণ তাঁর নাম মুসলিম সম্প্রদায়ের মতো শোনায় না। তাই সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েই সেখানে তৃণমূল জয়ী হয়েছে।”
এখানেই থেমে থাকেননি শুভেন্দু। জানান, ২০১৯ সালে তিনি নিজেই বহরমপুরে তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছিলেন, কিন্তু সেবার দল হেরে যায়। তাঁর দাবি, তখন দলের কর্মীরাই বলেছিলেন, সংখ্যালঘু প্রার্থী হলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।
তৃণমূলের এই অবস্থান রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। একদিকে তারা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে কেন্দ্রকে সমর্থন জানালেও, বিদেশ সফরে কেন্দ্রের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, কূটনৈতিক মঞ্চে সরকারের ‘মনোপলি’ সিদ্ধান্তকে তারা মেনে নিচ্ছে না।
