ভাইরাল খবর
রাজ্যপালের ভাষণে বাজেট অধিবেশন শুরু! বাংলায় আইনের শাসন ফেরানোর অঙ্গীকার
ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি (BJP) সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন (West Bengal Budget Session 2026)। সংসদীয় রীতি মেনে রাজ্যপাল আর এন রবির (Governor RN Ravi) উদ্বোধনী ভাষণের মধ্য দিয়েই এই ঐতিহাসিক অধিবেশনের সূচনা ঘটে। আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত চলবে এই অধিবেশন এবং আগামী ২২ জুন বিধানসভায় নতুন সরকারের বহুপ্রতীক্ষিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এবারই প্রথম বাজেট অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচার (Live Telecast) করা হচ্ছে।
এদিন রাজ্যপালের ভাষণে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, নারী সুরক্ষা (Women Security), কর্মসংস্থান এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়—অনুপ্রবেশ সমস্যার প্রসঙ্গটি অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে এসেছে। রাজ্যপাল স্পষ্ট করে দেন, নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি (Institutional Corruption) এবং তোলাবাজির শিকড় উপড়ে ফেলা। অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার জনবিন্যাস (Demography) বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষাকে নিশ্ছিদ্র করতে বিএসএফ-কে (BSF) কাঁটাতার দেওয়ার জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
পাশাপাশি, মহিলাদের ওপর হওয়া যেকোনো অপরাধ দমনে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) বা শূন্য সহনশীলতার নীতি নিয়ে চলবে। নারীদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের মতো বড় পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি। পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কড়া নিশানা করে রাজ্যপাল বলেন, আগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মানুষ আয়ুষ্মান ভারত বা পিএম আবাসের মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বঞ্চিত ছিলেন, যা এখন স্বচ্ছভাবে রূপায়ণ করা হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাজ্যে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ (NEP) লাগু হচ্ছে। পুরনো সরকারের নিয়োগ দুর্নীতি এড়াতে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত শূন্যপদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং প্রতি বছর নিয়মিত ‘টেট’ (TET) পরীক্ষা নেওয়া হবে। শিক্ষাঙ্গনে কোনো ‘থ্রেট কালচার’ (Threat Culture) বরদাস্ত করা হবে না। উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক বিকাশের জন্য সেখানে একটি নতুন আইআইটি (IIT) গড়ে তোলার মেগা ঘোষণা করেন তিনি। সাথে বন্ধ চা বাগান খোলা এবং পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Labour) সমস্যা সমাধানে বিশাল ‘স্টার্টআপ হাব’ গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।
শিল্পায়নের স্বার্থে বিগত সরকারের ফেলে রাখা অধিগৃহীত জমি পুনরুদ্ধার করা হবে। চিংড়িহাটা মেট্রোর মতো আটকে থাকা ৩৬টি রেল প্রকল্পে জমি দিয়ে কাজে গতি এনেছে এই সরকার। সব মিলিয়ে রাজ্যপালের এই ভাষণ বাংলায় এক নতুন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ভরসার বার্তাই দিল।
